রাশিয়ায় রসাটমের আন্তর্জাতিক ফিশিং টুর্নামেন্টে অংশ নিলেন বাংলাদেশী মৎস শিকারীরা

রাশিয়ার তিভের অঞ্চলে কালিনিন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কুলিং ওয়াটার উৎস হিসেবে ব্যবহৃত উদোমলিয়া হ্রদে ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হলো রসাটমের চতুর্থ আন্তর্জাতিক ফিশিং টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশসহ ১১টি দেশের শৌখিন মৎস শিকারীরা (অ্যাঙ্গলার) প্রতিযোগীতায় অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রোসাটম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশগুলো ছিল বেলারুশ, হাঙ্গেরি, ভিয়েতনাম, মিশর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, উজবেকিস্তান এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। মোট ২২ জন মৎস্যশিকারী উৎসবমুখর পরিবেশে নিজেদের মাছ ধরার দক্ষতা প্রমান করেন। এছাড়াও ২৮ জন সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উল্লেখ্য, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোতে রসাটমের সহযোগিতায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বর্তমানে চলমান বা বাস্তবায়ন অথবা পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে, কালিনিন এনপিপি-এর পরিবেশ সুরক্ষা এবং বিকিরণ পর্যবেক্ষণ পরিষেবার প্রতিনিধিরা প্রতিযোগিতার সময় ধরা পড়া মাছগুলোর রেডিয়েশন মাত্রা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে ধরা পড়া মাছগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল।

মালয়েশিয়ার দল ১.৭ কেজি ওজনের একটি পাইক-পার্চ মাছ ধরে ‘বিগেস্ট ফিশ’ ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয়, অন্যদিকে হাঙ্গেরি অর্জন করে ‘উইল টু উইন’ পুরস্কার। স্থানীয় প্রজাতির সর্বোচ্চ সংখ্যক মাছ ধরে ‘বিগেস্ট ক্যাচ’ ক্যাটাগরিতে জয়ী হয় রাশিয়ার দল।

অংশগ্রহণকারীদের কালিনিন এনপিপি পরিদর্শন করার সুযোগ দেয়া হয়। তারা ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিটের টার্বাইন হল এবং কন্ট্রোল রুম ঘুরে দেখেন, কুলিং টাওয়ার পরিদর্শন করেন এবং প্ল্যান্টের প্রকৌশলীদের সাথে মতবিনিময় করেন। কর্মসূচীর অংশ হিসেবে প্রতিযোগীরা মস্কোয় অবস্থিত অ্যাটম মিউজিয়াম, প্রকল্পের পার্শবর্তীঐতিহাসিক স্থানসমূহ এবং উদোমলিয়া জাদুঘরও পরিদর্শন করেন।

রসাটম ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্কের কমিউনিকেশনস বিভাগের উপমহাপরিচালক আলেকজান্দ্রা ইউস্টাস বলেন, “আন্তর্জাতিক ফিশিং টুর্নামেন্ট রসাটমের অন্যতম প্রধান শিক্ষামূলক ইভেন্ট হয়ে উঠেছে, যা পারমাণবিক শক্তির পরিবেশগত দিকগুলো তুলে ধরে এবং যেসব দেশে পারমাণবিক শক্তির বিকাশ ঘটছে, সেসব দেশের জনসাধারণের সাথে উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগ তৈরি করে।”

কালিনিন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উদোমলা হ্রদের দক্ষিণ তীরে অবস্থিত। এর ইন্সটলড উৎপাদন ক্ষমতা ৪,০০০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ প্রকল্পটি নিয়মিতভাবে জলজ সম্পদ সংরক্ষণসহ পরিবেশ সুরক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। ২০২৫ সালে এটি চারটি মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছিল, যার ফলে উদোমলিয়া ও পার্শবর্তী পেসভো হ্রদে বর্তমানে মাছের মজুদ প্রায় ৭৪০ টন।

রসাটমের এই বার্ষিক টুর্নামেন্টটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রম, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.