মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চাপে ইরানের বিমান চলাচল

ইরানের পুরো বিমান খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর দেশটির আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে চাপের মধ্যেও ইরান থেকে কয়েকটি দেশে বিমান চলাচল এখনো অব্যাহত রয়েছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রোববার তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪১টি ফ্লাইট ওঠানামা করেছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগের দুই দিনে সেখানে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ফ্লাইট চলাচল করেছিল। অর্থাৎ কয়েক দিনের ব্যবধানে ফ্লাইট সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ইরান এয়ার এবং বেসরকারি মেহান এয়ার সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে। রোববার তেহরান থেকে ছেড়ে যাওয়া ২৪টি ফ্লাইটের মধ্যে মেহান এয়ারের ছিল পাঁচটি এবং ইরান এয়ারের দুটি। নিষেধাজ্ঞার আগে দুই সংস্থাই প্রতিদিন প্রায় ১০টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করত।

গত ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বাকি সক্রিয় বিমান সংস্থাগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর আওতায় ইরানের বিমান খাতকে সহায়তা দেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

তবে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরানের বিমান যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তেহরান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে এখনো ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে বিমান যোগাযোগও চালু রয়েছে। তুরস্কের ক্ষেত্রেও কিছু ফ্লাইট অব্যাহত আছে।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সব ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে। ইরাক, আজারবাইজান ও জর্জিয়াসহ কয়েকটি রুটেও ফ্লাইট বন্ধ হয়েছে। মানবিক কারণে ইরানের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ চালু রাখতে ইরাক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় চেয়েছে।

তেহরান অবশ্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে অভিযোগ করেছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.