হামের ঝুঁকি কমাতে দ্বিতীয় দফার ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দিচ্ছে সরকার

হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় প্রথম দফার টিকাদান কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকা প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার সুরক্ষায় আনতে দ্বিতীয় দফার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। মাসব্যাপী এ কর্মসূচি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিএনটি খেলার মাঠে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চার বছর পরপর নিয়মিত এমআর টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার কথা থাকলেও ২০২০ সালের পর থেকে তা বন্ধ ছিল। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে।

চার বছর ধরে এ কর্মসূচি বন্ধ থাকার মাশুল বর্তমান সরকারকে দিতে হচ্ছে বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন জাতীয় স্বাস্থ্য সংকটে দেশের চিকিৎসকদের অবদান ও আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মন্ত্রী।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত এপ্রিল মাসে পরিচালিত বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়।

পরে জুন মাসে অনুষ্ঠিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রায় ৪৩ লাখ শিশু এমআর টিকার আওতার বাইরে রয়েছে। এসব শিশুর মধ্যে প্রথম দফার পর আরও যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে দ্বিতীয় দফার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে।

হাম ও রুবেলার মারাত্মক ঝুঁকি থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে এ সম্পূরক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সংক্রামক রোগ ও মহামারি প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

হাম, টিকাদান, বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি, শিশু, এমআর টিকা, রুবেলা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সাখাওয়াত হোসেন, কড়াইল, টিএনটি মাঠ, জনসচেতনতা

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.