নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জাতিসংঘের বাইরে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার শতাধিক

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের রাজপথে নেমে এসেছে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও গণহত্যার প্রতিবাদ এবং ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবিতে আয়োজিত এসব বিক্ষোভ থেকে শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের অদূরে ফার্স্ট অ্যাভিনিউ অবরুদ্ধ করে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। ‘জুয়িশ ভয়েস ফর পিস‘ (জেভিপি) এবং ‘নিউইয়র্ক সিটি ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার‘ (এনওয়াইসি-ডিএসএ) যৌথ নেতৃত্বে পরিচালিত এই বিক্ষোভ থেকে ১০৩ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একাধিক রাজনৈতিক প্রার্থী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন। তাদের মধ্যে নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল জেলান ডেমোক্রেটিক মনোনীত প্রার্থী দারিয়ালিজা অ্যাভিলা শেভালিয়ারও রয়েছেন।

এক বিবৃতিতে দারিয়ালিজা বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর স্থান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (হেগ); নিউইয়র্কের রাস্তায় বা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার মঞ্চে তিনি থাকতে পারেন না। জেভিপির সংগঠক জেস ফ্র্যাঙ্কেল কারেল বলেন, আমাদের করের টাকা শিশুদের ওপর বোমা ফেলার জন্য দেওয়া যাবে না, তা স্থানীয় শিক্ষা ও জনকল্যাণে ব্যয় হওয়া উচিত।

এদিকে বিক্ষোভের মুখে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে গাজায় গণহত্যার সব অভিযোগ অস্বীকার করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি এই অভিযোগকে ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা‘ বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোরান মামদানির কড়া সমালোচনা করে তাকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী‘ হিসেবে আখ্যা দেন। দাবি করেন মামদানির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বহু ইহুদি নিউইয়র্কে নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না।

নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যের জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মেয়র জোরান মামদানি বলেন, নেতানিয়াহু গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যা ঢাকার জন্য ভিত্তিহীন মিথ্যাচার করছেন।

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহুকে নিউইয়র্কে এলে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেয়র মামদানি। যদিও আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সেই একচ্ছত্র এখতিয়ার নেই।

জাতিসংঘে ভাষণ শেষে বিক্ষোভের মুখে দ্রুত নিউইয়র্ক ছাড়তে বাধ্য হন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের জন্য নিউইয়র্ক কখনোই নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে পারে না।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.