গাজা নিয়ে বিশ্ব নিষ্ক্রিয়, ‘সবার লজ্জা হওয়া উচিত’: ম্যাক্রোঁ

ফিলিস্তিনের গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও উপত্যকায় এখনো মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে বিশ্ববাসীর নিষ্ক্রিয়তার জন্য ‘সবার লজ্জা হওয়া উচিত’।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

ম্যাক্রোঁ বলেন, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি করা হলেও বাস্তবে সেখানে কোনো মানবিক করিডর পুনরায় চালু হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, গাজা সংকটে বিশ্ব যদি নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশ্বাসযোগ্যতার মূল্য কী—এ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। এ সময় জাতিসংঘের অধিবেশনে উপস্থিত বিশ্বনেতারা তাকে করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকার নিশ্চিত করা ইসরায়েলের নিরাপত্তাসহ পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তার মতে, ইসরায়েলের নিরাপত্তার কথা বলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের নিরাপত্তাকেই দুর্বল করতে পারে।

পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানান ম্যাক্রোঁ। সেখানে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং তাদের বৈধ অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।

ম্যাক্রোঁর বক্তব্যে গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। ফ্রান্স এর আগে যুক্তরাজ্য ও কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.