পুঁজিবাজার আধুনিকায়নে নতুন ওয়েবসাইট চালু করল ডিএসই

পুঁজিবাজারের আধুনিকায়ন ও বিনিয়োগকারীদের সেবা আরও সহজ করতে নতুন ও আধুনিক ওয়েবসাইট চালু করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডিএসই আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন ওয়েবসাইটটির উদ্বোধন করা হয়।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নতুন ওয়েবসাইটটি ডিজাইন করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের চাহিদা ও ব্যবহারিক সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এতে বেশ কিছু নতুন ক্যাটাগরি ও ফিচার যুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন ওয়েবসাইটে বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য এক জায়গা থেকেই পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে বাজারসংক্রান্ত তথ্য খোঁজা ও ডিএসইর বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের প্রক্রিয়াও আরও সহজ হবে।

ডিএসই জানিয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন ওয়েবসাইটটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তবে বিনিয়োগকারীদের নতুন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে পুরোনো ওয়েবসাইটও ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চালু থাকবে। এরপর পুরোনো ওয়েবসাইট বন্ধ করে শুধু নতুন ওয়েবসাইটের কার্যক্রম চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন ওয়েবসাইট চালুর উদ্যোগটি ডিএসইর চলমান প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ। এর আগে ডিএসই জানিয়েছিল, অনলাইনে অ্যাকাউন্ট খোলা, খুচরা বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজ করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কাজও এগিয়ে চলছে।

পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের মন্দা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট কাটাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছে ডিএসই। এ লক্ষ্যে বাজারের নজরদারি আরও তথ্যভিত্তিক ও ঝুঁকিনির্ভর করার পাশাপাশি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং ডেটাভিত্তিক সফটওয়্যার তৈরির কাজ চলছে।

ওয়েবসাইট আধুনিকায়নের পাশাপাশি পুঁজিবাজারের লেনদেন ও পণ্য ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ডিএসই। সংস্থাটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে টি+১ সেটেলমেন্ট ও স্ক্রিপ্ট নেটিং চালুর পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠকে নতুন ট্রেডিং কৌশল ও আর্থিক পণ্য চালু, প্রি-ওপেনিং সেশন পুনর্বিবেচনা, ব্রোকারদের তারল্যসংকট কমানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাধা দূর করার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

ডিএসইর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন ওয়েবসাইটসহ এসব প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বাজারের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবার মান উন্নত করা।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.