জেএমআই গ্রুপের আয়োজনে বিশ্ব শান্তি দিবস উদযাপন

বেলুন ও শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা উড়িয়ে রাজধানীতে জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব শান্তি দিবস-২০২৬ উদযাপন করেছে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতের প্রতিষ্ঠান জেএমআই গ্রুপ।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনে থেকে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হয়।

জেএমআই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক বেলুন ও সাদা পায়রা উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। কার্জন হলের সামনে থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি দোয়েল চত্বর প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

পরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বিশ্ব শান্তি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে বক্তারা জাতি, ধর্ম ও বর্ণের বিভেদ ভুলে মানবিক মূল্যবোধ, সাম্য ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে জনমত তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।

আলোচনা সভায় জেএমআই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, গত ১৭ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে বিশ্ব শান্তি দিবস পালন করে আসছে। নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শান্তি ও নিরাপত্তার মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই প্রতিবছর এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, শান্তি শুধু একটি শব্দ নয়, এটি একটি জীবনদর্শন। শান্তিকামী মানুষের স্বপ্নকে নিজের কর্মের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে চান তিনি। জেএমআই গ্রুপ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মানবতার সেবায় কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ২৭ বছরে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি পদক্ষেপে শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মো. আবদুর রাজ্জাক আরও বলেন, বর্তমানে জেএমআই গ্রুপ দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প পরিবার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, যেখানে ৪৩টি প্রতিষ্ঠানে ৯ হাজারের বেশি মানুষ কর্মরত। শান্তি প্রতিষ্ঠায় সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। ভবিষ্যতেও দেশ ও বিশ্বের কল্যাণে কাজ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে জেএমআই গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. জাবেদ ইকবাল পাঠান বলেন, জেএমআই পরিবারের প্রতিটি সদস্য বিশ্ব শান্তি দিবসের মূল বার্তা ধারণ করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শান্তি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অধিকার নয়; এটি সমগ্র মানবজাতির অধিকার।

তিনি বলেন, শান্তি শুধু যুদ্ধ না থাকার বিষয় নয়। এর সঙ্গে মানবিক অধিকার, ন্যায়বিচার, সাম্য ও পারস্পরিক সম্মানের বিষয়গুলোও জড়িত। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে একে অন্যের প্রতি সহযোগিতা, ভালোবাসা ও দায়িত্বশীল আচরণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে জেএমআই গ্রুপের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আমন্ত্রিত অতিথি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন ও বিপণন করছে জেএমআই গ্রুপ। ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, তুরস্ক ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ রয়েছে।

জাপানের নিপ্রো করপোরেশনের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে জেএমআই গ্রুপ। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানির চাহিদা পূরণে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস আমদানি ও বাজারজাত করছে প্রতিষ্ঠানটি।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.