যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসতে তিনটি শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, কাতারের মাধ্যমে এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগ চলছে। সংঘাত বন্ধের পরিবেশ তৈরি হলে আলোচনার পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব হতে পারে।
ইরানের প্রকাশ্যে জানানো তিন শর্ত হলো—সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার। রেজাইয়ের দাবি, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইতোমধ্যে এসব শর্ত ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
তবে আলোচনার পাশাপাশি কঠোর অবস্থানের কথাও জানিয়েছেন রেজাই। তিনি বলেন, সামরিক হুমকি দিয়ে ইরানকে আলোচনায় বসানো যাবে না। প্রয়োজনে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত মোকাবিলার জন্যও তেহরান প্রস্তুত রয়েছে।
রেজাই আরও জানিয়েছেন, আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মোট সাতটি শর্ত পাঠানো হয়েছে। তবে এর মধ্যে তিনটি শর্তই প্রকাশ্যে জানানো হয়েছে।
ইরানের এই অবস্থানের মধ্যে কাতার ও পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে। এর আগে পাকিস্তানের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতার চেষ্টা হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে এবং সেই উদ্যোগের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
এদিকে রেজাই দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক সক্ষমতার কিছু দুর্বলতা সম্পর্কে ইরান এখন অবগত এবং সম্ভাব্য বিমান হামলা মোকাবিলায় তারা আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুত। সম্প্রতি একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর কাছে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথাও তিনি জানিয়েছেন। তবে এসব সামরিক দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এখন ইরানের শর্তের বিষয়ে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার দিকেই নজর রয়েছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.