কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঘোষণা করা হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য আগামীকালকের দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদসহ অন্য প্রসিকিউটররা।
মামলার সাত আসামি হলেন—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। বর্তমানে সাত আসামিই পলাতক রয়েছেন।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
গত ২ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষের মোট ২৯ জন সাক্ষী এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। একই সঙ্গে রাজপথে নেতাকর্মীদের নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান এবং বিভিন্ন গোপন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা পরিচালনা, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আসামিরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তাদের নির্দেশনা ও কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.