ইয়েমেনের মোখা ও দুহাব এলাকায় হুতি বিদ্রোহীদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির বিমানবাহিনী। হামলায় হুতিদের যানবাহন, অস্ত্র, যোদ্ধাদের সমাবেশ এবং একটি সাবেক সামরিক সদর দপ্তর লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী।
ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মোখা বন্দরের কাছে এবং শহরের জায়েদ আল-খারাজ শপিং মলের আশপাশে হুতিদের অবস্থানে হামলা চালানো হয়। এতে বেশ কয়েকটি যানবাহন ও অস্ত্র ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি হুতি সদস্যদের হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
মোখায় পানি প্রকল্পের প্রশাসনিক কার্যালয়ের পাশেও হুতি সদস্যদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান আল-নুজাইলি।
এ ছাড়া মোখা-দুহাব সড়কে শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে একটি পশু কোয়ারেন্টাইন এলাকায় হুতিদের যানবাহন ও যোদ্ধাদের সমাবেশে হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় লক্ষ্যবস্তুগুলো ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আরও জানান, মোখার উত্তরাঞ্চলীয় রিং রোডে এক সাবেক সামরিক নেতার সদর দপ্তরেও হুতিদের সমাবেশ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
তবে এসব হামলায় মোট কতজন হতাহত হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
২০১৪ সালে ইরান-সমর্থিত হুতিরা রাজধানী সানা ও দেশের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ইয়েমেনে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ১২ বছর ধরে চলা এই সংঘাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থনপুষ্ট সরকারি বাহিনী হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে।
২০২২ সালের পর দেশটিতে সংঘাতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কমে এলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হুতিরা আঞ্চলিক সংঘাতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা ইসরায়েল এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনে আবারও সংঘাত বাড়তে থাকায় দেশটিতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.