এআই থেকে দুই পথে লাভের আশায় ওয়ারেন বাফেটের ‘বার্কশায়ার’
এআই ডেটা সেন্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অ্যালফাবেটে বড় বিনিয়োগ—দুই কৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারে সুযোগ দেখছে ওয়ারেন বাফেটের প্রতিষ্ঠান
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত সম্প্রসারণ থেকে দুই উপায়ে ব্যবসায়িক সুবিধা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী গ্রেগ অ্যাবেল জানিয়েছেন, একদিকে এআই ডেটা সেন্টারগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে, অন্যদিকে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটে বড় বিনিয়োগের মাধ্যমেও এআই খাতের প্রবৃদ্ধির অংশীদার হতে চায় বার্কশায়ার।
সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাবেল বলেন, এআই ডেটা সেন্টারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং এসব স্থাপনা পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন হচ্ছে। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহই ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের অন্যতম বড় সীমাবদ্ধতা। ফলে বার্কশায়ার ও এর বিদ্যুৎ ব্যবসা Berkshire Hathaway Energy-এর জন্য এটি একটি বড় সুযোগ তৈরি করছে।

তবে এ ধরনের ডেটা সেন্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বিদ্যমান গ্রাহকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে না—এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে বলে জানান অ্যাবেল।
অ্যালফাবেটে প্রায় ৩৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ
এআই থেকে সুবিধা নেওয়ার দ্বিতীয় পথ হিসেবে অ্যালফাবেটে বার্কশায়ারের বড় বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করেন অ্যাবেল। বর্তমানে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারে বার্কশায়ারের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩৬ বিলিয়ন ডলার।
ওয়ারেন বাফেটের সময়েই অ্যালফাবেটে প্রাথমিক বিনিয়োগ শুরু করে বার্কশায়ার। অ্যাবেলের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজেদের পরিচালনাধীন বিভিন্ন ব্যবসার অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন যে এআই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও ব্যবসায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। আর এই পরিবর্তনে গুগলকে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে দেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
চলতি বছরের বসন্তে অ্যালফাবেট এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণে অর্থ সংগ্রহের জন্য বড় ধরনের শেয়ার বিক্রি করলে বার্কশায়ার সরাসরি ১০ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার কেনে। অ্যাবেল জানান, এ বিনিয়োগের আগে তিনি বাফেটের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ছাড়ে শেয়ার কেনার বিষয়ে দুজনই সম্মত হন।
ডেটা সেন্টার নিয়ে বাড়ছে স্থানীয় বিরোধিতা
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধিতা বাড়ছে বলেও স্বীকার করেছেন অ্যাবেল। তাঁর মতে, ডেটা সেন্টার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
বিশেষ করে পানি ব্যবহারের পরিমাণ কমাতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি। তবে আইওয়ার মতো কিছু এলাকায় ডেটা সেন্টার স্থানীয় বাসিন্দাদের করের বোঝা কমাতে এবং স্কুল, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের মতো সরকারি সেবায় অর্থ জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করেন অ্যাবেল।
তাঁর মতে, একটি ডেটা সেন্টারকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য ও স্বাগত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।
জাপানে আরও বিনিয়োগের ইঙ্গিত
জাপানে অবস্থানরত অ্যাবেল দেশটির বাড়তে থাকা সুদের হার নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, জাপানের সুদের হার এখনো তুলনামূলকভাবে কম এবং এটিকে বার্কশায়ারের জাপানি বিনিয়োগের জন্য বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
জাপানের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদ ৩ শতাংশের ওপরে উঠলেও ভবিষ্যতে বিনিয়োগের প্রয়োজন অনুযায়ী বার্কশায়ার ইয়েনভিত্তিক বন্ড ইস্যু চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
ইতোচু, মারুবেনি, মিতসুবিশি, মিতসুই ও সুমিতোমো—জাপানের এসব বড় ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানে বার্কশায়ারের বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন অ্যাবেল।
এ ছাড়া জাপানি বিমা প্রতিষ্ঠান টোকিও মেরিনের সঙ্গে সম্ভাব্য বড় আন্তর্জাতিক অধিগ্রহণ নিয়ে গুঞ্জন সম্পর্কে সরাসরি মন্তব্য করেননি তিনি। তবে দুই প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত অংশীদারত্বকে ‘খুব বিস্তৃত’ উল্লেখ করে অ্যাবেল বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে সুযোগ তৈরি হলে ভবিষ্যতে যৌথ লেনদেনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.