‘ছয় মাসের মধ্যে কিছু ভাল কোম্পানি বাজারে আসতে শুরু করবে’

সিএমজেএফের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিএসইসি চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, কমিশন বাজারে ভাল কোম্পানির সংখ্যা বাড়ানো এবং কিছু নতুন পণ্য চালুর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে তারা নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইন সংশোধন ও সহজ করছেন।

তিনি বলেছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুঁজিবাজারে অনেক অগ্রগতি দৃশ্যমান হতে থাকবে। এ সময়ের মধ্যে দেশি-বিদেশি কিছু ভাল কোম্পানির বাজারে আসা শুরু হবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেছেন, আইপিও বিধিমালা সংশোধন ও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সরাসরি তালিকাভুক্তির বিধিমালার খসড়া জনমতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম বারের মতো হাইব্রিড পদ্ধতি তথা আইপিওর মাধ্যমে নতুন শেয়ার ইস্যু করার পাশাপাশি ডাইরেক্ট লিস্টিং প্রক্রিয়ায় একই কোম্পানির উদ্যোক্তাদের ধারণকৃত শেয়ারের একটি অংশ বিক্রি করার মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ চালু করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

মাসুদ খান বলেন, আমরা কোম্পানিগুলোর জন্য তালিকাভুক্ত হওয়ার বেশ কিছু বিকল্প পদ্ধতি রাখবো, যাতে তারা প্রয়োজনীয় শর্তপূরণ সাপেক্ষে তাদের জন্য উপযোগী পদ্ধতি বেছে নিতে পারে। কিন্তু এরপরও বাজারে আসতে না চাইলে সিকিউরিটিজ আইনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাদেরকে বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জের সুবর্ণগ্রামে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) সদস্যদের জন্য বিএসইসি আয়োজিত ‘ক্যাপিটাল মার্কেট প্রোডাক্ট অ্যান্ড রুলস’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ভাল কোম্পানিগুলোকে বাজারে আসতে উৎসাহী করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়েও প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, আইপিও প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে ‘এক্সটেন্ডেড অডিট’ চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তখন শুধু কাগজে-কলমে আর্থিক বিবরণী দেখলে হবে না; কোম্পানির জমি, যন্ত্রপাতি, মজুতপণ্য ও পাওনা-দেনার তথ্য বাস্তবে সঠিক কি না, তাও যাচাই করা হবে। এ জন্য আইপিও আবেদনকারী কোম্পানির সম্পদ ও আর্থিক তথ্যের বাস্তবতা যাচাই করে অডিটরদের প্রত্যয়ন করার ব্যবস্থা করা হবে। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) আইপিও যাচাই–প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এখনো মূলত ব্যক্তি বিনিয়োগকারী-নির্ভর। তাদের উপর নির্ভর করে বাজারকে বেশিদূর নেওয়া সম্ভব নয়। তাই বাজারকে টেকসই ও গতিশীল করতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড ও অন্যান্য তহবিলের অর্থ শেয়ারবাজারের পাশাপাশি করপোরেট বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, উন্নত দেশের পুঁজিবাজারে পেনশন ফান্ড ও বিমা কোম্পানি বড় বিনিয়োগকারী। বাংলাদেশেও এসব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীকে বাজারে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু আইনী বিধিনিষেধ ও সীমাবদ্ধতা আছে। এ কারণে এসব আইন সংশোধনের জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মাসুদ খান বলেন, বন্ড বাজারের প্রসারের লক্ষ্যে সব করপোরেট বন্ডকে মেইন বোর্ডে নিয়ে আসা হবে। বিভিন্ন ব্যাংকের বন্ড অনুমোদনের সময় তাদেরকে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার শর্ত দেওয়া হচ্ছে। অতীতে তালিকাভুক্তি ফি অনেক বেশি হওয়ায় ব্যাংকগুলো আগ্রহী হতো না। বিএসইসির পরামর্শে স্টক এক্সচেঞ্জ এই ফি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে। কয়েকটি ব্যাংক গ্রিন বন্ড ইস্যুর পরিকল্পনা করছে। এই ধরনের বন্ডের প্রতি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অনেক আগ্রহ রয়েছে। কোনো একটি ব্যাংক এ ধরনের বন্ড ইস্যুর পর যদি সত্যই বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কাঙ্খিত সাড়া পায়, তাহলে অন্য ব্যাংকগুলোও গ্রীন বন্ড ইস্যু করতে উৎসাহী হয়ে উঠবে। আর তা করতে হলে তাদের প্রতিষ্ঠানকে তার উপযোগী করে তুলতে হবে। আমাদের পরিবেশের ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.