প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে বেশ স্বস্তির খবর এসেছে। সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশীরা ২ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন বা ২৯৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন দেশে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। গত বছর আগস্ট মাসে দেশে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে আগস্টে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৫৪ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রবাসী আয়ে উল্লম্ফন দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত টানা ছয় মাস রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল। মাঝে একবার মার্চে পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলারের ঘরেও পৌঁছায় প্রবাসী আয়। দেশের ইতিহাসে এক মাসে আসা সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স ছিল সেটিই। পরবর্তী দুই মাসে প্রবাসী আয় কমলেও তা ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল। এপ্রিলে দেশে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার ও মে মাসে ৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। এরপরই প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আবারো কমতে থাকে।
টানা ছয় মাসের পর গত জুন মাসে তিন বিলিয়ন ডলারের কম রেমিট্যান্স আসে দেশে। সে মাসে ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠায় প্রবাসীরা। এরপর জুলাই মাসে প্রেরিত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। সবশেষ গত আগস্টেও এ সংখ্যা ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করতে পারেনি।
এদিকে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কিছুটা ধীরগতির হয়ে এলেও গত বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স আসে। বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রবাসীদের পাঠানো এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বৈধ পথে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। আর ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের শাসনাধীন সবশেষ অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪-এ প্রবাসী আয় এসেছিল ২৩ দশমিক ৯১ ডলার।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.