জাহাজ ভাঙার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

জাহাজ পুনর্ব্যবহার বা জাহাজ ভাঙার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা সরকার ব্যয় করবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ‘বাংলাদেশে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনর্ব্যবহার প্রকল্পের অধীনে টিএসডিএফ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন’ শীর্ষক নীতিনির্ধারণী কর্মশালায় মন্ত্রী এসব বলেন।

শিল্প মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) যৌথ উদ্যোগে এবং নরওয়ের অর্থায়নে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, জাহাজ পুনর্ব্যবহার বা জাহাজ ভাঙা শিল্পে পরিবেশদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাহাজ ভাঙার সময় উৎপন্ন বিপজ্জনক বর্জ্য নিরাপদে সংরক্ষণ, পরিশোধন ও নিষ্পত্তির জন্য ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি (টিএসডিএফ) কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মান ও হংকং কনভেনশন মেনে জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পকে আরও নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করা হবে। অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ শিল্পের উন্নয়ন করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, একটি বড় জাহাজ—প্রায় ৪০ থেকে ৬০ হাজার টন ওজনের—ভাঙার সময় বিপুল পরিমাণ বিপজ্জনক বর্জ্য তৈরি হয়। এসব বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পের টেকসই উন্নয়নে টিএসডিএফ কেন্দ্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, টিএসডিএফ শুধু জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নয়, ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন শিল্পের বিপজ্জনক বর্জ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনাতেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একসময় জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে বিশ্বে শীর্ষস্থানে ছিল। বর্তমানে ভারত কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। তবে পরিবেশগত মান নিশ্চিত করে এ শিল্পকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করার সুযোগ রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এই শিল্পটি শুধু বড় ব্যবসার খাত নয়, এটি আমাদের স্টিল বা ইস্পাত শিল্পের জন্য কাঁচামালের এক বিশাল উৎস। তবে অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি শিল্পটির পরিবেশগত দায়ও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ৩১টি গ্রিন সার্টিফায়েড জাহাজ পুনর্ব্যবহার ইয়ার্ড রয়েছে। আরও কয়েকটি ইয়ার্ড গ্রিন সার্টিফিকেশনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আগামী দিনে এ সংখ্যা তিন অঙ্কে, অর্থাৎ ১০০-এর বেশি করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

মন্ত্রী বলেন, হংকং কনভেনশনের মানদণ্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনর্ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় সরকার। এ জন্য শিল্পটিতে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

কর্মশালায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং বাংলাদেশে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া আইএমওর টেকনিক্যাল কো-অপারেশন বিভাগের সেনসারেক প্রকল্পের প্রতিনিধি জন আলোনসো এবং জাপান মেরিন সায়েন্স কোম্পানির প্রধান আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ সুমিয়ুকি ওৎসুকি টিএসডিএফ প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করেন।

কর্মশালায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান, সেনসারেক বাংলাদেশ প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক নূরুন নাহারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.