চিত্রনায়ক সালমান শাহকে (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। এ কারণে প্রতিবেদন জমার জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
রোববার (৩০ আগস্ট) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন করে এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার সাবেক স্ত্রী সামীরা হক, সামীরার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি, সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, অভিনেতা আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছিল।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত ঘটনাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরদিন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটিতে সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামীরা হক, তার মা লতিফা হক লুসি, আজিজ মোহাম্মদ ভাই ও আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে মামলার অন্যতম আসামি অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে গত ৯ আগস্ট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিনই আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ১২ আগস্ট তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত।
এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান ডনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ২৭ আগস্ট আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সালমান শাহের পরিবার শুরু থেকেই তার মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছে। দীর্ঘদিনের আইনি প্রক্রিয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তের আওতায় আসায় এখন তদন্ত প্রতিবেদনকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.