নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যায় নিহত ৬৯১, নিখোঁজ আড়াই হাজার

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। পঞ্চম দিনেও দুর্গত এলাকায় চলছে উদ্ধার অভিযান। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৯১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে তিব্বতে আরও সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফলে দুই অঞ্চলে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৬৮২ জনে।

নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের পর এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে নিখোঁজদের সংখ্যা এখনও প্রায় ২ হাজার ৫০০। এ ছাড়া ২১৯ জন আহত অবস্থায় রয়েছেন।

এর আগে নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছিল, বন্যার কবল থেকে ২৫০ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও ৩২০ জন বিদেশি নাগরিকের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে নুয়াকোট জেলায় নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে উদ্বিগ্ন মানুষের ভিড় বাড়ছে। ত্রিশূলী-৩ ‘এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাতেও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কাদামাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা বিভিন্ন টানেল ও ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

বন্যার ভয়াবহতায় অনেক পরিবার তাদের স্বজনদের হারিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সঙ্গে কথা বলার সময় ইংল্যান্ডের সাসেক্স থেকে নেপালে ছুটে যাওয়া এক ব্যক্তি জানান, নিজের গ্রামের পরিস্থিতি দেখতে তিনি বাবাকে সঙ্গে নিয়ে দুর্গত এলাকায় গেছেন। বন্যায় তার স্ত্রী, মা, চাচা ও ভাই নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের গ্রাম যেখানে ছিল, সেই পুরো এলাকা এখন পানির নিচে বলে জানান তিনি।

তবে ভয়াবহ এই দুর্যোগের মধ্যেও কিছু ঘটনায় আশার আলো দেখা গেছে। বন্যার পানি থেকে বাঁচতে একটি গাছে উঠে আশ্রয় নেওয়া আট বছরের এক শিশুকে পরে উদ্ধার করা হয়। এরপর মায়ের সঙ্গে শিশুটির হৃদয়স্পর্শী পুনর্মিলনের ছবি সামনে আসে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

দুর্যোগের পঞ্চম দিনেও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদামাটির নিচে আরও কেউ জীবিত আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকারীরা বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.