২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করা এবং চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ী সমাজ। এ জন্য প্রণোদনামূলক ট্যারিফ নির্ধারণ, ট্রানজিট ও রিফুয়েলিং সুবিধা নিশ্চিত করা এবং কার্গো ভিলেজ স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
রোববার(১৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিআই)-এর সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে এ দাবি জানিয়েছে।
চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের প্রশংসা করেছে চেম্বার। একই সঙ্গে এ উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, বৃহৎ পাইকারি বাজার, একাধিক বৃহৎ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ দেশের অধিকাংশ শিল্প-কারখানা চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে চট্টগ্রাম দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ কেন্দ্র। কিন্তু দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের তুলনায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতার ব্যবহার এখনো নিশ্চিত হয়নি।
তাদের মতে, বর্তমান সক্ষমতায় আরও বেশি যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং, ট্রানজিট এবং কানেক্টিং ট্রাফিক আকর্ষণের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা কেন্দ্রিক এভিয়েশন ট্রাফিকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ও চাপ কমানোর পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে পূর্ব-পশ্চিম এভিয়েশন এবং পর্যটন ও লজিস্টিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, পতেঙ্গা এলাকায় বিশাল আয়তনের জমিতে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর উভয়ের জন্য কার্গো ভিলেজ এবং আইসিডি/সিএফএস স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় এসব স্থাপনাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন বেসরকারি খাত বা ব্যবসায়ীরা পিপিপি, বিওও ও বুট পদ্ধতিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম ও আগ্রহী।
ব্যবসায়ীদের মতে, মোংলা বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে এবং এর সক্ষমতার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের লক্ষ্যে সরকার মোংলা বন্দরের স্ট্র্যাটেজিক মাস্টার প্ল্যানে চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় হ্রাসকৃত ট্যারিফ নির্ধারণ করেছে। একইভাবে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরেও অধিক ট্রাফিক আকর্ষণ করে পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রণোদনামূলক বা রেয়াতি ট্যারিফ নির্ধারণ করা জরুরি।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবগুলো হলো—
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন চালু রাখার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ।
আন্তর্জাতিক রুটের জন্য ৪০ শতাংশ প্রেফারেনশিয়াল ট্যারিফ নির্ধারণ।
লং রুট ফ্লাইটের বিরতির ক্ষেত্রে যাত্রী নেওয়া ও নামানোর সুবিধা প্রদান।
ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে লং হাল ফ্লাইটের জন্য ট্রানজিট ও রিফুয়েলিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় পিপিপি, বিওও ও বুট পদ্ধতিতে কার্গো ভিলেজ এবং আইসিডি/সিএফএস স্থাপন।
ব্যবসায়ী সমাজ বলছে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এটিকে আন্তর্জাতিক মানের একটি কার্যকর বিমানবন্দরে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।
চট্টগ্রামকে বাস্তবিক অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী এবং আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবসায়ী সমাজের এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একান্ত বিবেচনা, ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.