রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ তপশিল ঘোষণা করেন।

ঘোষণা অনুযায়ী, নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে ২০ আগস্ট। মনোনয়নপত্র দাখিল ১৩ ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার ১৮ আগস্ট।

এর আগে ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যদের নাম সংবলিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠায় সংসদ সচিবালয়। ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, কমিশন আজ ভোটার তালিকা পেয়েছে। সংসদ থেকে এ তালিকা পাঠানো হয়েছে।

গত ২১ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের ক্ষমতাবলে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান আছে।

গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদে প্রস্তাব করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সংসদের উভয় কক্ষের সদস্যদের (এমপি) গোপন ভোটে। বর্তমান ব্যবস্থায় ৩৫০ জন এমপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। ফলে এমপিরা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন না। বিদ্যমান ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে ভোট দিলে এমপি পদ বাতিল হবে।

এ নিয়মের কারণে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি হওয়া অবধারিত। বাংলাদেশে সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছে একবারই- ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। জামায়াতে ইসলামীর ১৮ এমপি তাঁকে ভোট দেন। আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী ৯২ ভোট পান। পরের সাতটি নির্বাচনে সরকারি দলের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার জয় ঠেকাতে জুলাই সনদে প্রস্তাব করা হয়, এমপিদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। যে ৩০টি সংস্কার প্রস্তাবে কোনো দলেরই নোট অব ডিসেন্ট ছিল না, এর একটি এই প্রস্তাব। তবে এখনও সংবিধান সংশোধন না হওয়ায় এই প্রস্তাব কার্যকর হয়নি। আবার সংসদের উচ্চকক্ষও গঠিত হয়নি সংবিধান সংশোধন না হওয়ায়। যদিও বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফায় ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের কথা বলা আছে, যাতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.