কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৭

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোতে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোরবেলা পর্যন্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রুশ বাহিনী। এতে কিয়েভে নিহত হয়েছেন ১৭ জন এবং আহত হয়েছেন ৪০ জনেরও বেশি।

বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবারের হামলায় ইউক্রেনের পরিবহন ব্যবস্থা, লজিস্টিক এবং সেনাবাহিনীর রসদ বিতরণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে এ হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রাশিয়া থেকে ছোড়া ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই আটকে দিয়ে ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে ইউক্রেনীয় বাহিনী। তবে হামলাকারী ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের জন্য যে পিএসি-৩ নামের বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন, সেগুলোর সংকট প্রায়ই দেখা দেয়।

এই সংকট থেকে উত্তরণে অভ্যন্তরীণভাবে প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতির জন্য সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেন-দরবার শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এমন সময়েই হামলার এ ঘটনা ঘটল।

বুধবারের হামলার পর জেলেনস্কির দপ্তর থেকে দেওয়া বিবৃতিতেও এ তথ্য উঠে এসেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের হাতে (প্যাট্রিয়ট) ব্যালিস্টিক ইন্টারসেপ্টর থাকলে আজকের এই হামলা এবং প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো।’

যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্সের প্রযুক্তি হস্তান্তরের ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেয়নি।

পরে বুধবার সন্ধ্যার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা এক বার্তায় ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সিস্টেমের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোতেও তদ্বির করছেন তিনি। তবে এক্ষেত্রেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়েছে ইউক্রেন।

ফেসবুক পোস্টে ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘যত শিগগির সম্ভব যাবতীয় লাল ফিতাজনিত জটিলতার অবসান ঘটিয়ে ইউক্রেনকে একটি কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষা সিস্টেম প্রদান করা জরুরি। কারণ আক্ষরিক অর্থেই ইউক্রেনের নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন এই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.