ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপস্থিতি বর্তমান সংকটময় সময়ে ইরানের জন্য শক্তির একটি বড় উৎস। জনসমক্ষে না থাকলেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে খামেনির দিকনির্দেশনা ও ভূমিকা অব্যাহত রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেওয়া এক বক্তব্যে মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘তাঁর উপস্থিতি আমাদের জন্য শক্তির একটি বড় উৎস, যা আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সহায়তা করে।’
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জনসমক্ষে দেখা যায়নি মোজতবা খামেনিকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি প্রকাশ্যে আসেননি। ওই হামলাতেই তাঁর বাবা ও ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।
মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, মোজতবা খামেনির সঙ্গে বর্তমানে যোগাযোগ স্থাপন করা অত্যন্ত কঠিন।
খামেনির অনুপস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, তিনি তাঁর সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন এবং সেখানে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও অত্যন্ত যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখেছেন।
এদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১৪–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে নীতিগত মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মোজতবা খামেনি জাতীয় নিরাপত্তা ও সংঘাত-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার আহমাদ ভাহিদির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
একই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অতীতে একাধিকবার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া, জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে তাঁর প্রশাসনকে দূরে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। তবে এসব দাবির বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.