যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে নতুন নিয়ম আনার পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় নাগরিকত্ব পরীক্ষার জন্য নতুন শিক্ষাগত মানদণ্ড নির্ধারণ এবং পরীক্ষার কিছু অংশ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
নিউজউইক-এর প্রতিবেদনের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) নিয়ন্ত্রক পরিকল্পনায় এ প্রস্তাবের উল্লেখ রয়েছে। এটি কার্যকর হলে প্রতি বছর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা কয়েক লাখ অভিবাসী নতুন নিয়মের আওতায় আসবেন।
ডিএইচএস জানিয়েছে, নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, মান এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে পরীক্ষার কাঠামো বা নতুন নিয়মের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমান আইনে নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের ইংরেজি ভাষায় পড়া, লেখা ও বলার মৌলিক দক্ষতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান প্রদর্শন করতে হয়। তবে আবেদনকারীরা কীভাবে এসব শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কাঠামো নেই।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নাগরিকত্বের শিক্ষাগত যোগ্যতা মূল্যায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড ও কাঠামো তৈরি করা হবে। ডিএইচএসের দাবি, এর ফলে বৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের সমাজে আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং দেশটির সংবিধান, আইন ও প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধ সম্পর্কে তাদের ধারণা আরও শক্তিশালী হবে।
এ ছাড়া নাগরিকত্ব পরীক্ষার কিছু দায়িত্ব তৃতীয় পক্ষের হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। এতে পরীক্ষা পরিচালনায় আরও নমনীয়তা আসতে পারে বলে ধারণা করা হলেও কোন প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পাবে বা কীভাবে পরীক্ষা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার (ইউএসসিআইএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে প্রায় ৮ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। গত এক দশকে দেশটিতে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন প্রায় ৮০ লাখ অভিবাসী।
সরকারি তথ্য বলছে, নাগরিকত্ব পরীক্ষায় প্রথমবারেই প্রায় ৮৯ দশমিক ৭ শতাংশ আবেদনকারী উত্তীর্ণ হন। পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ যুক্ত করলে সামগ্রিক সাফল্যের হার বেড়ে ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছায়।
এদিকে নাগরিকত্ব পরীক্ষায় পরিবর্তনের এই উদ্যোগ এমন সময়ে নেওয়া হচ্ছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন প্রতারণা, তথ্য গোপন বা অন্য কোনো বেআইনি উপায়ে নাগরিকত্ব অর্জনের অভিযোগে নাগরিকত্ব বাতিলের কার্যক্রমও জোরদার করেছে।
সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমন্বিত নাগরিকত্ব বাতিল অভিযানের আওতায় স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ২৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ডিএইচএস আগামী ডিসেম্বর নাগরিকত্ব পরীক্ষার পরিবর্তনসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব প্রকাশ করতে পারে। এরপর তা জনমতের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। মতামত গ্রহণ শেষে চূড়ান্ত বিধিমালা কার্যকর করা হবে। তবে নতুন নিয়ম কবে থেকে কার্যকর হবে কিংবা আবেদনকারীদের জন্য কী কী অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.