বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় ৭ জন নিহত

টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির মধ্যাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকা। পরিস্থিতির অবনতির কারণে ওই অঞ্চলের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাহাড়ি চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে প্রবল বৃষ্টির পর আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস দেখা দেয়। গত বছরের নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহের ভয়াবহ আঘাত থেকে পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হওয়ার আগেই নতুন এই দুর্যোগে অঞ্চলটি আবারও বিপর্যস্ত হয়েছে।

সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র প্রদীপ কোডিপ্পিলি জানান, ভূমিধসে দুটি বাড়ি ধসে পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বন্যার পানিতে ডুবে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুর্যোগে ১২৯টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় টেলিভিশনের প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়ক অতিক্রম করে সেনাসদস্যরা দুর্গত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

শ্রীলঙ্কার নুওয়ারা এলিয়া ও বাদুল্লাসহ মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পাহাড়ি হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সেখানে ভূমিধসের ঝুঁকি বেশি থাকে। ভারী বৃষ্টিপাত হলেই এসব অঞ্চলে প্রায়ই প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।

২০২৫ সালের শেষ দিকে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহের প্রভাবে একই অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় ৬৪০ জন নিহত হন। ওই দুর্যোগে প্রায় ৪১০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল এবং সে সময় দেশজুড়ে স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে আবারও বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা নতুন করে চাপে পড়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কবে পুনরায় খুলে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.