হরমুজ সংকটেও রেকর্ড আয়, আরামকোর মুনাফা বেড়েছে ৩৩ শতাংশ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ এবং তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) উল্লেখযোগ্য মুনাফা করেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে আরামকো জানায়, এপ্রিল থেকে জুন মেয়াদে তাদের সমন্বিত নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১২৫ দশমিক ২ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল, যা প্রায় ৩৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। এক বছর আগে একই সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা ছিল এর তুলনায় ৩৩ শতাংশ কম। অথচ বিশ্লেষকদের গড় পূর্বাভাস ছিল প্রায় ৩১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, ফলে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পরিশোধিত জ্বালানি, রাসায়নিক পণ্য এবং অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্যের কারণে তাদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পণ্যের বিক্রির পরিমাণ কিছুটা কমে যাওয়ায় সেই প্রভাব আংশিকভাবে সমন্বয় হয়েছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি অব্যাহত রাখতে আরামকো তাদের ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ব্যবহার করে লোহিত সাগরের মাধ্যমে তেল পরিবহন করছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৭০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির সক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে।
আরামকোর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আমিন এইচ. নাসের বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নজিরবিহীন সরবরাহ সংকটের মধ্যেও বহুমুখী অবকাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন, সংরক্ষণ সুবিধা এবং রপ্তানি টার্মিনালের কারণে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা সম্ভব হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরামকোর পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থপ্রবাহ ছিল ২৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে কোম্পানিটির গিয়ারিং রেশিও (ঋণ অনুপাত) মার্চ শেষে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে জুন শেষে ৬ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে।
আরামকোর পরিচালনা পর্ষদ আগামী তিন মাসে ২১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার ভিত্তিক লভ্যাংশ (বেস ডিভিডেন্ড) শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণের ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির তেল কোম্পানিগুলোর সমালোচনা করে বলেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির উচ্চমূল্য থেকে তারা অতিরিক্ত মুনাফা করছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এক্সনমোবিল ও শেভরন জ্বালানির ঘাটতির সুযোগ নিয়ে “অতিরিক্ত অর্থ” আয় করছে, যা তার পছন্দ নয়।
প্রকাশিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে এক্সনমোবিলের মুনাফা বেড়ে ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে শেভরনের মুনাফা প্রায় চার গুণ বেড়ে ১২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.