মার্কিন ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থানের প্রবণতা কমাতে বিশ্বের অন্তত ৫০টি দেশের জন্য ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালুর পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই কর্মসূচিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৫০ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও।
ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভিসা বন্ড কর্মসূচিকে স্থায়ী করার এই সিদ্ধান্ত মূলত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানসহ মোট ৫০টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে বর্তমান তালিকায় ভারতের নাম নেই। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে।
মার্কিন ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এক বছরের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ভিসাধারীরা যেন তাদের অবস্থানের মেয়াদ ও শর্ত মেনে চলেন, তা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। নতুন নিয়ম আগামী সোমবার থেকে কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ফেডারেল রেজিস্টারের এই বিজ্ঞপ্তি বি-১ ও বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা ব্যবসা ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে ইস্যু করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভিসা ইস্যুর শর্ত হিসেবে কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে বলতে পারবেন।
এতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ভিসা বন্ড পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং ডিপার্টমেন্ট অব দ্য ট্রেজারির জন্য এই কর্মসূচি পরিচালনার সম্ভাব্যতা মূল্যায়নের একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। ওই প্রকল্পের তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, বন্ড গ্রহণকারী ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে আইনি শর্ত নিশ্চিত করতে ভিসা বন্ড কর্মসূচি অত্যন্ত কার্যকর।
পাইলট কর্মসূচির আওতায় কনস্যুলার কর্মকর্তারা ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ডের দাবি করতে পারতেন। তবে চূড়ান্ত নিয়মে ৫ হাজার ডলারের বিকল্পটি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর আগামী ৩ আগস্ট থেকে এই নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। বর্তমানে কর্মসূচির আওতায় থাকা ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার দেশ।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমাতেই এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে অভিবাসনবিষয়ক অধিকারকর্মীদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে ভ্রমণে আগ্রহী মানুষকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।
তাদের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর কঠোর অভিবাসন নীতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে। একই সঙ্গে এটি জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি এবং বর্ণগত বৈষম্যকে উৎসাহিত করছে। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করে আসছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করতে চান। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, তাঁর প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু ভিসা আবেদনকারীর জন্য উচ্চ ফি আরোপ এবং দেশে অবস্থানকারী বা নতুন আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কঠোরভাবে যাচাইয়ের মাধ্যমে বৈধ অভিবাসনও কঠিন করে তুলেছে।
যেসব দেশের জন্য স্থায়ী হলো মার্কিন ভিসা বন্ড
আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বাংলাদেশ, বেনিন, ভুটান, বতসোয়ানা, বুরুন্ডি, কেপ ভার্দে, কম্বোডিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, আইভরিকোস্ট, কিউবা, জিবুতি, ডোমিনিকা, ইথিওপিয়া, ফিজি, গ্যাবন, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, গ্রেনাডা, গিনি, গিনি-বিসাউ, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, লেসোথো, মালাবি, মৌরিতানিয়া, মরিশাস, মঙ্গোলিয়া, মোজাম্বিক, নামিবিয়া, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি, সাও টোমে ও প্রিন্সিপে, সেনেগাল, সিশেলস, তাজিকিস্তান, তানজানিয়া, টোগো, টোঙ্গা, তিউনিসিয়া, তুর্কমেনিস্তান, টুভালু, উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনিজুয়েলা, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.