ককরোচ পার্টির মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত দিল্লি

একদিকে যখন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছেন ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যরা, তখন দিল্লির যন্তর মন্তরে কেরালা হাউসের সামনে পুলিশের দ্বারা সোনাম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর উপর পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ।

সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এই কথা জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস।

এছাড়াও তিনি দুপুরের দিকে লেখেন যে মুখ্য আন্দোলনকারী অভিজিৎ দীপকেকে পুলিশ ‘তুলে নিয়েছে’, অবশ্য পরে তিনিই জানান যে অভিজিৎ দীপকেকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। কেরালা হাউসের সামনে বহু মানুষের জমায়েত হয়েছে।

১৯ জুলাই রাত থেকেই যন্তর মন্তরে আজ সংসদ অভিযানের জন্য জড়ো হতে শুরু করেছিলেন ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা আন্দোলনকারীরা। ভারতের সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংসদ ভবনের দিকে এগোতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।

পুলিশের সঙ্গে একাধিক সংঘর্ষের ছবিও সামনে আসে। বন্ধ করে দেওয়া হয় মধ্য দিল্লির বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন। আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনের কাছে রেল ভবন পর্যন্ত পৌঁছে গেলে তাদের উপর কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে সশস্ত্র কেন্দ্রীয় পুলিশবাহিনী।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছিলেন সোনাম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। দুপুর ১২টার দিকে ককরোচ জনতা পার্টির সহ-প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ দাস সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ জানান যে তারা দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন।

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার কাছে হলফনামা জমা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিরা।

আলোচনায় রাজি হওয়ায় সোনাম ওয়াংচুক অভিজিৎ দীপকেকে অনুরোধ করেছেন তার অনশন ভঙ্গ করার জন্য। সোনাম ওয়াংচুককে ধর্ণাস্থল থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করার পর থেকেই অনশনে বসেছিলেন অভিজিৎ দীপকে। যদিও সোনাম ওয়াংচুকের অনশন এখনও চলছে বলেই জানিয়েছেন তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো।

প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে গীতাঞ্জলি আংমো বলেন, “এই সরকার জনবিরোধী, এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলবে।”

সম্প্রতি ভারতের চিকিৎসাক্ষেত্রে ভর্তির পরীক্ষা নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় সারা দেশ থেকে ২১ জন ছাত্রছাত্রীর আত্মহত্যার খবর মিলেছে। ফলে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে আন্দোলন শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের সমর্থন দিয়ে অনশনে বসেন শিক্ষাকর্মী ও পরিবেশ বিষয়ক আন্দোলনকারী সোনাম ওয়াংচুক।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.