স্টক এক্সচেঞ্জের এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তবে বিএসইসি নিজে এই তদন্ত পরিচালনা করবে না। তারা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) এই দায়িত্ব দিয়েছে। শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি কোম্পানিটির শেয়ারের লেনদেন ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শেষে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ডিএসইকে।
বিএসইসি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
এদিকে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি চলতি সপ্তাহেই আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের উদ্যোক্তাদের (Sponsors) মালিকানাধীন কোম্পানি রয়্যাল ফুটওয়ার পিএলসিকে কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) মাধ্যমে বাজার থেকে ১২ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছে। আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারের মূল্য ও লেনদেন অস্বাভাবিক বৃদ্ধির সঙ্গে এর যোগসাজশ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করছেন, আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের উদ্যোক্তা এবং কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে কি-না সেটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
উল্লেখ, কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) বা ব্যবসায়িক অগ্রগতির ঘোষণা ছাড়াই গত পাঁচ মাসে আল-মদিনা ফার্মার শেয়ারের দাম ১৮৫ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারের দাম ছিল মাত্র ৩৫ দশমিক ৯০ টাকা, যা ৫ জুলাই বেড়ে দাঁড়ায় ১০২ দশমিক ৫০ টাকায়। এই সময়ের মধ্যে শেয়ারপ্রতি দাম বেড়েছে ৬৬ দশমিক ৬০ টাকা। শুধু গত আড়াই মাসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ১১২.৫ শতাংশ।
এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে গত ৫ জুলাই ডিএসই কোম্পানিটিকে চিঠি দেয়। জবাবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানায়, শেয়ারের দাম এভাবে বাড়তে পারে— এমন কোনো অপ্রকাশিত তথ্য তাদের কাছে নেই। তাই বিষয়টিকে অস্বাভাবিক মনে করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।
তদন্তের অংশ হিসেবে কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো সমন্বিত কারসাজি বা অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে গঠিত তদন্ত কমিটি। পাশাপাশি স্টক ব্রোকার, ডিলার ও তাদের প্রতিনিধিরা মার্জিন রুলস এবং কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনেছেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।
বিশেষ করে সন্দেহজনক লেনদেন সম্পাদনে সহায়তা করা বা তা প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড এবং ইউনাইটেড ফাইন্যান্সিয়াল ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন বিবেচিত হতে পারে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর বিধি ১১ এবং তফসিল-২-এর ধারা ৩৫-এর পরিপন্থী বা লঙ্ঘন হিসেবে।
আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালস শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০২৩ সালে। কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ২০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সে হিসাবে কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ২ কোটি ৪০ লাখ। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির উদ্যোক্তাদের হাতে ৫৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪০ দশমিক ৪৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
তালিকাভুক্তির পর থেকেই মদিনা ফার্মার পারফরম্যান্সে ভাটার টান লেগেছে। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ধারাবাহিকভাবে কমছে। তালিকাভুক্তির বছরে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ১ টাকা ৫৭ পয়সা, যা পরের বছর কমে ৮৭ পয়সায় নামে। ২০২৫ সালে ইপিএস আরও কমে দাঁড়ায় ৫৮ পয়সা।
এদিকে, গত এক বছরে আল-মদিনার উদ্যোক্তাদের ধারণকৃত শেয়ারের সংখ্যাও কমছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন আল-মদিনার উদ্যোক্তাদের হাতে কোম্পানির ৬৯.৮৫ শতাংশ শেয়ার ছিল। চলতি বছরের ৩০ জুন তা কমে ৫৫ শতাংশ দাঁড়িয়েছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.