যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে জর্ডান ও কুয়েতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশ দুটিতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই নতুন হামলা চালায় ইরানের সামরিক বাহিনী। একইসঙ্গে ইরানের ওপর হামলায় ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের ‘সামরিক অবকাঠামো’ ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত পাল্টা হামলা চলবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওই হামলায় মার্কিন বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থায়ী রাডার এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
তেহরানের দাবি, ‘সায়েকেহ’ অভিযানের নবম ধাপ হিসেবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। ইরানশাহরের বাম্পুর ব্যারাকে হামলায় সাত সেনা নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে বলেও জানানো হয়।
অন্যদিকে জর্ডানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা পেত্রা জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া আটটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, এতে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পরে রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ নিরাপদে সরিয়ে নেয় এবং পুরো আকাশসীমায় নজরদারি জোরদার করা হয়।
এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বাহিনীটি দাবি করে, ‘নাসর-২’ অভিযানের অষ্টম ধাপে একটি সি-র্যাম আগাম সতর্কীকরণ রাডার এবং মার্কিন সেনাদের সমাবেশস্থল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি আরও অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে কুয়েতের ভূখণ্ড ব্যবহার করছে। এজন্য কুয়েতের জনগণের প্রতি দেশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি তোলার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এদিকে আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি জানিয়েছেন, রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি পাকদাশ্ত, পারচিন ও সেমনান শহরে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেমনানে হামলায় বিমানবন্দরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া খোররামাবাদ ও মধ্যাঞ্চলের খোন্দাবেও নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, খুজেস্তান প্রদেশের আন্দিমেশক এলাকায় একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
এর আগে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক এবং কোনারাক এলাকাতেও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবর প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনার পর ইরান জানায়, তাদের পাল্টা সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আইআরজিসির এক মুখপাত্র বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আক্রমণাত্মক সামরিক অবকাঠামো’ ধ্বংস করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের অভিযান চালানো হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.