হরমুজ প্রণালির বিকল্পে নতুন বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনায় আমিরাত

হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলে নতুন বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা করছে দেশটির বহুজাতিক লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড। এ লক্ষ্যে ফুজাইরাহ উপকূলে একটি নতুন বহুমুখী বন্দর এবং একই আমিরাতের বিদ্যমান বন্দরে নতুন কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

গত দুই দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্দর ও লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে ডিপি ওয়ার্ল্ড আমিরাতের অন্যতম বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে জেবেল আলি বন্দর প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, যা দুবাইকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে বন্দরের কিছু কার্যক্রম দুবাইয়ের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হলে তা আমিরাতের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন হবে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার ঝুঁকি মোকাবিলায় হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানোর যে বৃহত্তর পরিকল্পনা আবুধাবি নিয়েছে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের এই উদ্যোগ তারই অংশ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

নতুন বন্দর নির্মিত হলে ওমান উপসাগরে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে। এতে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার না করেই দেশটিতে পণ্য আনা-নেওয়া সম্ভব হবে। পরে সড়কপথে ট্রাকে করে সেসব পণ্য দুবাই, আবুধাবি এবং প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে পরিবহন করা যাবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পের শর্তাবলি নিয়ে বর্তমানে আমিরাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছে ডিপি ওয়ার্ল্ড। তবে প্রকল্পের কাঠামো ও অর্থায়ন এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

নতুন প্রকল্পের বিস্তারিত নিশ্চিত না করলেও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলমান এই বিঘ্ন কাটিয়ে উঠতে কার্যক্রমে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

ডিপি ওয়ার্ল্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, নতুন বন্দর দেড় বছরের মধ্যেই নির্মাণ শেষ হতে পারে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর অঞ্চলটির বৃহত্তম কনটেইনার বন্দর জেবেল আলিতে কার্যক্রম ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কমে যায়। এর পর থেকেই বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করে বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি।

সংঘাতের সময় ইরানের হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল আমিরাত। দেশটির দিকে প্রায় তিন হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সংঘাতের শুরুতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে জেবেল আলি বন্দরে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে।

তবে উপসাগরীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বন্দর নির্মাণের অর্থ এই নয় যে জেবেল আলি বন্দরের গুরুত্ব কমে যাবে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, জেবেল আলি জেবেল আলিই থাকবে। এর কার্যক্রম কখনও ছোট করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে নতুন স্থাপনাগুলো গড়ে তোলা হবে। ভবিষ্যতে অতিরিক্ত সক্ষমতার প্রয়োজন হলে সেগুলো আরও সম্প্রসারণ করা হতে পারে। তার ভাষায়, পরিস্থিতি খারাপ হলে এটি হবে একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.