দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ২ বছর কারাদণ্ড

দেশের একটি জনমত পর্যবেক্ষণ সংস্থার পাওনা পরিশোধ না করা এবং আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োলকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানী সিউলের কেন্দ্রীয় জেলা আদালত এ রায় দেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে নিজের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে একটি বেসরকারি জরিপ সংস্থাকে দিয়ে দেশব্যাপী মোট ১৪টি জনমত জরিপ পরিচালনা করান ইউন সুক ইয়োল। সংস্থাটির দাবি, এসব জরিপের জন্য মোট ২৭ কোটি উওন বা প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ২২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৪১ টাকা) পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা ছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ইউন সুক ইয়োল ওই অর্থ পরিশোধ না করে বরং তার আইনজীবীর মাধ্যমে সংস্থাটিকে হুমকি ও মামলার ভয় দেখিয়েছিলেন।

তবে ইউন সুক ইয়োল আদালতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন কিংবা পরে কখনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের জনমত জরিপ পরিচালনার নির্দেশ দেননি।

রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত।

গত বছরের ৩ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিকে’ দমনের কথা বলে আকস্মিকভাবে সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন ইউন সুক ইয়োল। তার এই সিদ্ধান্তে পুরো দক্ষিণ কোরিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।

তীব্র সমালোচনা ও বিরোধিতার মুখে পরে তিনি সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। তবে এ ঘটনার জেরে দেশটি কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকটে পড়ে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ে।

বিরোধী দলের অভিশংসন প্রস্তাবের পর গত ১৪ ডিসেম্বর দেশটির সাংবিধানিক আদালত ইউন সুক ইয়োলকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণ করে।

বর্তমানে ৬৫ বছর বয়সী ইউন সুক ইয়োলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন আদালতে মোট আটটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে সামরিক আইন জারির মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধেও তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.