বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর মওকুফের অর্থ গবেষণা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যয় করতে হবে: অর্থমন্ত্রী
রাজধানীর দ্য ওয়েস্টিন ঢাকায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ কর প্রত্যাহারের ফলে যে অর্থ সাশ্রয় হবে, তা অবশ্যই শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে অগ্রগতির জন্য ব্যয় করতে হবে।
রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি) আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ বাস্তবায়নে দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা একটি অলাভজনক খাত। এ কারণেই সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী বছর থেকে এই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছেই থাকবে। তবে সেই অর্থ শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেটিং উন্নয়নে ব্যয় করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সরকারি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে আত্ম-নিয়ন্ত্রণ বা ‘সেলফ-রেগুলেশন’ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আইন চাপিয়ে দিয়ে নিয়ন্ত্রণে বিশ্বাসী নয়। বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব জবাবদিহির মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করবে—এটাই সরকারের প্রত্যাশা।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক মূলধারার বাইরে থাকা সব খাত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে জিডিপির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। শিল্পের পাশাপাশি থিয়েটার, সংগীত, চারুকলা এবং গ্রামীণ কুটিরশিল্পের মতো খাতগুলোরও আর্থিক মূল্যায়নের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বাস করে। সরকার একা সব করতে পারে না; টেকসই উন্নয়নের জন্য বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চায় সরকার। বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুবিধার্থে এবারের বাজেটে পাঁচ বছরের নীতিগত দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইসিটি খাতে বিদেশি নির্ভরতা কমাতে দেশীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট এবং স্থানীয় আইসিটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
দেশের নৈতিক অবক্ষয় রোধেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিই নয়, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের (এপিইউবি) চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. সবুর খান এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মামুন আহমেদ সরকারের এই উদ্যোগকে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণা সম্প্রসারণে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জাতীয় উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.