জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার ভোর সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম।
ব্যক্তিগত জীবনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার স্ত্রী নূর আখতার, এক কন্যা নিলুফার জমির এবং দুই ছেলে নওশাদ জমির ও নওফেল জমির রেখে গেছেন। তার জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হবে বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।
১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জমির উদ্দিন সরকার। তার বাবা মৌলভী মুহম্মদ আজিজ বক্স এবং মা বেগম ফখরুন্নেছা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৬১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরে আইন পেশায় যোগ দেন। পরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিষয়ে একজন স্বনামধন্য আইনজীবী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবনেই ১৯৪৫ সালে ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পর তিনি প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেন এবং দীর্ঘদিন ধরে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন। পঞ্চগড়-১, ঢাকা-৯, বগুড়া-৬ এবং দিনাজপুর-১ আসন থেকে তিনি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আবদুস সাত্তার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। এছাড়া ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনজীবী জীবনে রাষ্ট্র পরিচালনা, সংসদীয় কার্যক্রম এবং বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.