যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) খাতে বিনিয়োগের যে জোয়ার শুরু হয়েছে, তা বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে এটি দারুণ ভূমিকা রাখছে বলে আজ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
সংস্থাটি জানায়, চলতি বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৩ শতাংশে নামতে পারে, যা গত বছর ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে আগামী বছর (২০২৭ সালে) তা আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাবে। আইএমএফ-এর গত এপ্রিল মাসের পূর্বাভাসের তুলনায় নতুন এই হিসেবে চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর হলেও, ২০২৭ সালে বিশ্ব অর্থনীতি আরও দ্রুত গতিতে ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক ধাক্কা সবচেয়ে বেশি সইতে হচ্ছে জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোকে। তবে এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর অর্থনীতিবিদরা বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে যতটা আশঙ্কা করেছিলেন, পরিস্থিতি তার চেয়ে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।
এর মূল কারণ বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন। যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বিনিয়োগের ওপর ভর করে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট চিপ ও হার্ডওয়্যার রপ্তানিকারক শীর্ষ চার দেশ—তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার প্রবৃদ্ধি এখন আইএমএফ-এর পূর্বাভাসের চেয়েও দ্রুত গতিতে বাড়ছে। চলতি বছর কেবল যুক্তরাষ্ট্রেরই চার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান—অ্যালফাবেট, অ্যামাজন, মেটা ও মাইক্রোসফট এআই খাতে ৭০০ বিলিয়ন (৭০ হাজার কোটি) ডলার পুঁজি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
আইএমএফ জানিয়েছে, সেমিকন্ডাক্টরের (চিপ) বাজারে শক্তিশালী চাহিদার ওপর ভর করে চলতি বছর দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ২ দশমিক ৬ শতাংশে। সংস্থাটি গত এপ্রিল মাসে যে পূর্বাভাস দিয়েছিল, নতুন এই হিসাব তার চেয়ে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.