মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলতি সপ্তাহে সংঘাত বৃদ্ধি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি জানান, গত মে মাস থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। শনিবার (১১ জুলাই) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বন্ধের বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে তেলের দামে। নভেম্বরের আগাম নির্বাচনের আগে বিষয়টি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান আমাদের আলোচনা চালিয়ে যেতে বলেছে। আমরা তাতে রাজি হয়েছি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাদের দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শেষ!’
অন্যদিকে ট্রাম্পের এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে ইরান। দেশটি বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অনুরোধ করেনি। বরং কাতারের এক মধ্যস্থতাকারীকে আতিথ্য দিতে সম্মত হয়েছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, উত্তেজনা প্রশমন এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার জন্য কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা শুক্রবার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ট্রাম্প আরেক পোস্টে বলেন, তেহরান যদি তাকে হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানকে লক্ষ্য করে ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর পরপরই আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে। ইরান সরকার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে অর্থাৎ আমাকে হত্যা করে বা হত্যার চেষ্টা করলে এ পদক্ষেপ কার্যকর করা হবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে এক বছরের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এ সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এ সময়সীমা আরও বাড়ানো যেতে পারে। মার্কিন বাহিনী ইরানের সব এলাকাকে সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত ও ধ্বংস করে দিতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর!’
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরায়েল ওয়াশিংটনকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে। ওই তথ্যে দাবি করা হয়েছে, ইরান সম্প্রতি ট্রাম্পকে হত্যার একটি পরিকল্পনা করেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শনিবার ওমানে পৌঁছেছেন।
শুক্রবার ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরান প্রকাশ্যে ঘোষণা করুক যে তারা প্রণালিটিতে জাহাজের ওপর হামলা বন্ধ করবে। পাশাপাশি প্রণালিটি কোনো ধরনের টোল ছাড়াই উন্মুক্ত রাখতে হবে।
যুদ্ধ চলাকালে তেহরান প্রণালিটির ওপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তির সঙ্গে ইরানের সংঘাতে একটি অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.