২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার মুখে ছিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে দলটির দুই গোলে পিছিয়ে পড়া মানেই ছিলো লজ্জাজনক হার। এমন পরিস্থিতিতে ১৩ বার পড়েছিল তারা। তবে এবার ইতিহাস পাল্টে দিয়ে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে রূপকথার জয় লিখলেন আলবিসেলেস্তেরা।
বিশ্বকাপের স্বপ্ন ফিকে হয়ে যাবার ঠিক আগ মুহুর্তে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১২ মিনিটে তিন গোল করে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে নাটকীয়ভাবে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচটি মনে হচ্ছিল মিশরই জিততে চলেছে। শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং মোহাম্মদ সালাহ ও ওমর মারমুশের নেতৃত্বে আক্রমণভাগের কার্যকর ফুটবলে চাপে পড়ে যায় লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে ইতিহাস গড়ার স্বপ্নও দেখতে শুরু করেছিল উত্তর আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। প্রথম গোল হজম করার অর্প সময়ের মধ্যেই পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু লিওনেল মেসি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন।
খেলার ৫৮ মিনিটে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণে মোহাম্মদ সালাহর বাড়ানো পাস ধরে একক প্রচেষ্টায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মোস্তাফা জিকো। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে কার্যত বিদায়ের মুখে দাঁড়িয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
৭৯ মিনিট থেকে বদলাতে থাকে ম্যাচের চিত্র। লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। সেই গোল যেন নতুন প্রাণ ফিরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনার খেলায়।
মাত্র চার মিনিট পরই নিজের জাদু দেখান মেসি। প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে বল পেয়ে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে জাল খুঁজে নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বলটি ক্রসবারে লেগে জালে জড়ালে ২-২ সমতায় ফেরে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এবং ম্যাচে ফিরে আসে নতুন উত্তেজনা।
এরপর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আক্রমণে উঠে এসে এনজো ফার্নান্দেজ মিশরের জালে জয়সূচক গোলটি পাঠিয়ে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য এক জয় নিশ্চিত করেন। শেষ বাঁশি বাজতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা।
ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনের সময় তাঁর চোখেমুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি, আনন্দ এবং কান্না। কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে ফিরিয়ে আনার আনন্দ স্পষ্ট ছিল আর্জেন্টাইন অধিনায়কের অভিব্যক্তিতে।
গ্রুপ পর্বে দাপুটে পারফরম্যান্সের পর নকআউট পর্বে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। এর আগে কেপ ভার্দের বিপক্ষেও অতিরিক্ত সময়ে লড়াই করে জয় নিশ্চিত করেছিল তারা। ফলে শিরোপা ধরে রাখার পথে প্রতিটি ম্যাচেই যে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, সেটি আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।
হারলেও মিশর প্রশংসা কুড়িয়েছে দুর্দান্ত লড়াইয়ের জন্য। ম্যাচের দীর্ঘ সময় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের সামনে তাদের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে।
এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.