নাসা মেইনল্যান্ড গার্মেন্টস-এর শ্রমিকদের চলমান সংকট নিরসনে অবশেষে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা এবং ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে ২০২৫ সালের বকেয়া অর্জিত ছুটির অর্থ পরিশোধ করা হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-এ নাসা মেইনল্যান্ডের মালিক ও শ্রমিক পক্ষের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় শ্রম সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার এ ঘোষণা দেন।
শ্রমসচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর-এর শীর্ষ কর্মকর্তা, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর নেতৃবৃন্দ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা। নাসা মেইনল্যান্ড গার্মেন্টসের মালিকের পক্ষে ভাইস চেয়ারম্যান রঞ্জন চৌধুরী-সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং শ্রমিকদের পক্ষে একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেন।
এর আগে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নাসা মেইনল্যান্ড গ্রুপের মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। দীর্ঘ আলোচনার পর আজ সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসে।
ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে নাসা মেইনল্যান্ডের শ্রমিকদের সব প্রকার বকেয়া ভাতা এবং ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে ২০২৫ সালের সকল বকেয়া অর্জিত ছুটির অর্থ শতভাগ পরিশোধ করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উভয় পক্ষ।
নাসা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান রঞ্জন চৌধুরী এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ও সচিবকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। অন্যদিকে, শ্রমিক প্রতিনিধিরাও এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে রাস্তা অবরোধ বা জনদুর্ভোগ হয় এমন কোনো আন্দোলনে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিগত ঈদুল ফিতর-এর পর থেকে আর্থিক সংকটের কারণ দেখিয়ে নাসা মেইনল্যান্ডের কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। নাসা মেইনল্যান্ডের আওতাধীন নাসা নিট, নাসা অ্যাপারেলস ও ওয়েস্টার্ন ড্রেসেস-এর সাধারণ শ্রমিকরা মে মাসের বকেয়া মজুরি, ২০২৫ সালের অর্জিত ছুটির টাকা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের বকেয়া ও নোটিশ পে বিল নিষ্পত্তির দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন।
পাশাপাশি শ্রম আইন অনুযায়ী ১২০ দিনের সমপরিমাণ মজুরি-ভাতা এবং শতভাগ সার্ভিস বেনিফিটের দাবিও ছিল তাদের। আজকের এই ফলপ্রসূ বৈঠকের পর নাসা মেইনল্যান্ড গ্রুপের শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.