কানাডার বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার সফলভাবে তাদের মর্যাদাপূর্ণ বিবিসিসি বিজনেস গালা নাইট আয়োজন করেছে। শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, রিচমন্ড হিলের শেরাটন পার্কওয়ে টরন্টো নর্থ হোটেল অ্যান্ড স্যুটসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতা, উদ্যোক্তা, ব্যাংকার, বিনিয়োগকারী, পেশাজীবী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ একত্রিত হন।
অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল কানাডা ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব কানাডার সভাপতি আলমগীর রহমান। সূচনা করেন বিবিসিসির পরিচালক ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকবাল রশদ, যিনি স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের কানাডাস্থ হাইকমিশনার মো. জসীম উদ্দিন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ডলি বেগম।
বিবিসিসির প্রধান উপদেষ্টা সুবীর কুমার দে-ও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এবং কানাডা ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে তাঁর মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন।
মূল বক্তব্যে মো. জসীম উদ্দিন কানাডা ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বাংলাদেশি-কানাডিয়ান উদ্যোক্তাদের আরও দৃঢ় ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
তিনি আরও বলেন, বিবিসিসি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যা দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতা ও উদ্যোক্তাদের একত্রিত করেছে।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে ডলি বেগম কানাডার অর্থনীতিতে বাংলাদেশি-কানাডিয়ান উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন।
তিনি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকারি সহায়তা কর্মসূচি, ব্যবসায়িক উদ্ভাবন এবং কমিউনিটি সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি ব্যবসায়ী সমাজকে শক্তিশালী করতে বিবিসিসির চলমান উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতের কার্যক্রমে তাঁর অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিবিসিসির নেতৃবৃন্দ ব্যবসা উন্নয়ন, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, অর্থায়নের সুযোগ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়ে ধারাবাহিক উপস্থাপনা প্রদান করেন।
বিবিসিসির পরিচালক শিপন হাওলাদার ‘আইটি আউটসোর্সিং এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন। তিনি কানাডা ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
তানভীর নেওয়াজ ‘বাংলাদেশ ও কানাডা: বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অংশীদারিত্বের নতুন অধ্যায় নির্মাণ’ শীর্ষক উপস্থাপনা করেন। তিনি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিবিসিসির পরিচালক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট শহিদুল ইসলাম মিন্টু ‘ব্যবসায়িক অর্থায়নের সুযোগ’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন। তিনি সরকারি অর্থায়ন কর্মসূচি, অনুদান, বিভিন্ন ধরনের ফাইন্যান্সিং, ব্যাংকিং সহায়তা এবং কানাডিয়ান ব্যবসার জন্য বিদ্যমান রপ্তানি সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তিনি উদ্যোক্তাদের এসব সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে ব্যবসা সম্প্রসারণ, উদ্ভাবন গ্রহণ এবং বাংলাদেশি-কানাডিয়ান ব্যবসায়ী সমাজের অর্থনৈতিক অবদান আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
বিবিসিসির পরিচালক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ফেরদৌস আহমেদ ‘কানাডা ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক সুযোগ’ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের বিশাল সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে আলমগীর রহমান উদ্যোক্তাদের সহায়তা, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং সহজতর করা এবং কানাডা–বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বিবিসিসির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি-কানাডিয়ান ব্যবসায়ী সমাজের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ, সহযোগিতা এবং জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে বিবিসিসি ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।
কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে বিবিসিসির নেতৃত্ব প্রধান অতিথি মো. জসীম উদ্দিন এবং সম্মানিত অতিথি ডলি বেগমের হাতে স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেন।
কানাডা–বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার করা এবং বাংলাদেশি-কানাডিয়ান ব্যবসায়ী সমাজকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে তাঁদের নেতৃত্ব, অব্যাহত সহযোগিতা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে এনআরবি অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত জনপ্রিয় শিল্পী শামিত বড়ুয়া এবং মহুয়া পারিয়াল মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপহার দেন। তাঁদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা পুরো অনুষ্ঠানকে আরও উৎসবমুখর করে তোলে।
আনুষ্ঠানিক পর্বের সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন বিবিসিসির পরিচালক নাসিরউদ্দিন মাহমুদ। তিনি প্রধান অতিথি, সম্মানিত অতিথি, বিশিষ্ট বক্তা, স্পন্সর, অতিথিবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক এবং আয়োজক কমিটির সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান, যাঁদের সহযোগিতায় বিজনেস গালা নাইট সফল ও স্মরণীয় হয়েছে।
তিনি উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ব্যবসায়িক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কানাডা–বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে বিবিসিসির দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ ছিল রোমাঞ্চকর র্যাফেল ড্র, যেখানে সৌভাগ্যবান বিজয়ীদের মধ্যে বেশ কয়েকটি মূল্যবান পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি ৭৫-ইঞ্চি এলইডি স্মার্ট টেলিভিশন স্পন্সর করেন বিবিসিসির পরিচালক মাসুদ মল্লিক।
এইচপি স্লিম বিজনেস ল্যাপটপ স্পন্সর করে বাংলাদেশ প্লাজা, সৌজন্যে বিবিসিসির পরিচালক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট শহিদুল ইসলাম মিন্টু এবং মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল।
টিম হর্টনস গিফট কার্ড উদারভাবে স্পন্সর করেন বিবিসিসির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকবাল রশদ।
বিবিসিসি বিজনেস গালা নাইট ২০২৬ নতুন উদ্দীপনা এবং পারস্পরিক অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।
ব্যবসায়ী নেতা এবং কমিউনিটির সদস্যরা উদ্যোক্তা উন্নয়ন, উদ্ভাবন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কানাডা–বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অর্থবহ ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি করবে, আরও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলবে এবং বাংলাদেশি-কানাডিয়ান ব্যবসায়ী সমাজের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ও সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.