থামছেই না লিওনেল মেসির জাদু। ২০২৬ বিশ্বকাপে এবার নিজের নামের পাশে যোগ করলেন আরেকটি অনন্য রেকর্ড। জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা সাত ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
আগেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলায় জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে মেসিকে শুরুর একাদশে রাখেননি কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে তাতে আর্জেন্টিনার খেলায় খুব একটা প্রভাব পড়েনি। প্রথমার্ধেই দুই গোল করে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন মেসি। আর মাঠে নেমেই আবারও দেখিয়ে দেন কেন তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার বলা হয়। আক্রমণভাগে তার উপস্থিতি আর্জেন্টিনাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ম্যাচের একপর্যায়ে বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। সেই সুযোগই কাজে লাগান মেসি।
ফ্রি-কিক নেয়ার আগে জর্ডানের রক্ষণভাগের সামনে অবস্থান নেন আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, মার্কোস সেনেসি ও নিকোলাস ওতামেন্দির উপস্থিতি প্রতিপক্ষের দৃষ্টিসীমায় কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি করে। সেই সুযোগে নিচু শটে বল পাঠান মেসি। জর্ডানের দুই স্তরের রক্ষণদেয়াল ভেদ করে বল জালে জড়ায়। গোলরক্ষক আবদুলাইলার কিছুই করার ছিল না।
মেসির সেই গোলে আর্জেন্টিনা ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তবে গোলটির গুরুত্ব শুধু ম্যাচের স্কোরলাইনে নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির ষষ্ঠ গোল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি।
এর আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার রেকর্ড ছিল ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন ও ব্রাজিলের জাইরজিনহোর। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ফন্টেইন এবং ১৯৭০ বিশ্বকাপে জর্জিনহো এই কীর্তি গড়েছিলেন। পরে মেসিও তাদের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন। তবে জর্ডানের বিপক্ষে গোল করে সেই যৌথ অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে এককভাবে ইতিহাসের শীর্ষে উঠে গেলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড নিজের করে নেয়া মেসি এবার যোগ করলেন আরেকটি অনন্য অধ্যায়। বয়স বাড়লেও বড় মঞ্চে তার প্রভাব যে এতটুকু কমেনি, জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচটি তারই আরেকটি প্রমাণ হয়ে থাকল।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.