মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে পরাজিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এই জয় কেবল পূর্ণ পয়েন্ট এনে দেয়নি, বরং গোল ব্যবধানে মরক্কোকে পেছনে ফেলে গ্রুপ ‘সি’-তে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। একই সাথে চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র।
স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্কট ম্যাককেনির দুর্বল ব্যাকপাসের সুযোগ নিয়ে ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই দলের হয়ে গোলের খাতা খোলেন গোলমেশিন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ২২ মিনিটে আবার স্কটল্যান্ডের জালে বল জড়ান তিনি। কিন্তু গোলের আগে স্কটিশ ডিফেন্ডার হেনড্রিকে ফাউল করায় ভিএআর যাচাইয়ের পর ভিনির গোলটি বাতিল করেন মেক্সিকান রেফারি সিজার রামোস।
প্রথমার্ধের বিরতির আগে ভিনিসিয়ুস তার দ্বিতীয় গোলটি করেন দুর্দান্ত এক হেডের মাধ্যমে। যোগ করা সময়ে (৪৫+৩) মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারাইসের ক্রস থেকে ম্যাচে নিজ ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। চলতি বিশ্বকাপে এটি ভিনিসিয়ুসের চতুর্থ গোল, সবমিলিয়ে পঞ্চম। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় সেলেসাওরা।
বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৬০ মিনিটে ম্যাচের তৃতীয় গোল করেন ম্যাথিউস কুনহা। দারুণ এক আক্রমণ থেকে ব্রুনো গিমারাইসের দ্বিতীয় অ্যাসিস্টে এই গোলটি করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা। এটি চলতি বিশ্বকাপে কুনহার তৃতীয় গোল। হাইতির বিপক্ষে আগের ম্যাচেই জোড়া গোলে দলকে জিতিয়েছিলেন তিনি।
এরপর অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দীর্ঘ ২ বছর ৮ মাস, অর্থাৎ ৯৮১ দিনের অপেক্ষার পর আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফেরেন নেইমার জুনিয়র। ৭৬ মিনিটে ম্যাথিউস কুনহার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। এর মাধ্যমে চতুর্থ বিশ্বকাপে মাঠে নামার কীর্তি গড়লেন ব্রাজিলের ইতিহাসে এই সর্বোচ্চ গোলদাতা।
ব্রাজিলের জয়ে পয়েন্ট টেবিলের চিত্র পরিষ্কার হয়েছে। অপর ম্যাচে মরক্কো ৪-২ ব্যবধানে হাইতির কাছে পরাজিত হওয়ায়, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল। অন্যদিকে, স্কটল্যান্ড সরাসরি বিদায় না নিলেও সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোর একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠার ক্ষীণ আশা টিকিয়ে রেখেছে।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ব্রাজিল মুখোমুখি হবে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ দলের। বর্তমান টেবিল অনুযায়ী, জাপানের বিপক্ষে তাদের মাঠে নামার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, গ্রুপ রানার্সআপ হওয়া মরক্কোকে লড়তে হবে গ্রুপ ‘এফ’-এর শীর্ষ দল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে ব্রাজিল এখন নিজেদের পরবর্তী মিশনে মনোযোগী। নেইমারকে ফিরে পাওয়া ও ছন্দময় ফুটবল—সব মিলিয়ে সেলেসাওদের পারফরম্যান্স এখন নকআউট পর্বে বড় কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.