বৈশ্বিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি টেলিফোন হটলাইন নেটওয়ার্ক স্থাপনে সম্মতি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও মুখপাত্র মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইরনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঘালিবাফ বলেন, “হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছি। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিতভাবে হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার কাজ করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি টেলিফোন হটলাইন এবং একটি সেন্টার স্থাপন করা হবে, যাতে হরমুজে কোনো জাহাজ কোনো ধরনের সমস্যায় পড়লে হটলাইন সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, সুইজারল্যান্ডে আলোচনার পর দেশে ফেরার পথে বিমানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন থেকে প্রণালীটি “ইরানি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে” এবং “যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় আর কখনো ফিরে যাবে না।”
পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্ত করা ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে সংকট ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
তবে গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসলামাবাদ শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হয় এবং জাহাজ চলাচলও বাড়তে থাকে।
ঘালিবাফ বলেন, ইরান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং যেকোনো সমস্যা বা ভুল বোঝাবুঝি সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্যান্য অঞ্চলের মতো হরমুজেও সংঘাত বা জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টেলিফোন হটলাইন নেটওয়ার্ক স্থাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা হরমুজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করবে। কোনো জাহাজ বা নৌযান যদি নির্দিষ্ট পথ বা কার্যক্রম নিয়ে সমস্যায় পড়ে, তবে তারা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.