সিন্ধু নদের পানি বণ্টন ইস্যুকে কেন্দ্র করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। ভারতের কোন পদক্ষেপের কারণে পাকিস্তানের পানি নিরাপত্তা হুমকি হুমকির মুখে পরলে সামরিক পদক্ষেপ বা সরাসরি যুদ্ধে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।
সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান তিক্ত বিরোধের মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করলেন।
সম্প্রতি পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পানি ইস্যুকে জাতীয় নিরাপত্তার একটি মৌলিক বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেন খাজা আসিফ। তিনি বলেন, সিন্ধু অববাহিকার পানিতে পাকিস্তানের প্রবেশাধিকার হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে হলে ইসলামাবাদ কোনও সংশয় ছাড়াই প্রতিক্রিয়া জানাবে।
তিনি যোগ করেন, ‘পানি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তারই একটি অংশ। যে মুহূর্তে আমরা অনুভব করব যে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে, তখন আমরা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাব। অবশ্যই।
কয়েকদিন আগে ভারতের জলশক্তিমন্ত্রী সিআর পাটিলের একটি ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে পাকিস্তানে সিন্ধুর পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া যেতে পারে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ঘটনার পর ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে ভারত।
নয়াদিল্লি ওই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের দায়ী করে এবং বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত চুক্তিটি স্থগিত ঘোষণা করে। ভারত জানায়, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ পদক্ষেপ না নেয়া পর্যন্ত চুক্তি স্থগিতই থাকবে।
সিন্ধু নদী ব্যবস্থা থেকে পানির বণ্টন নিয়ন্ত্রণকারী এই চুক্তির আওতায় অববাহিকার মোট পানির প্রায় ৮০ শতাংশ পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। ফলে দেশটির কৃষি, সেচব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পাকিস্তান বারবার আপত্তি জানিয়ে আসছে। তাদের দাবি, পানিপ্রবাহে যেকোনও ধরনের বিঘ্ন নদী ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল কোটি মানুষের জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.