ডিএসইর ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানি, উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীরা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৪২টি কোম্পানিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। আর এই তালিকায় রয়েছে জ্বালানি খাতে তালিকাভুক্ত মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড। দীর্ঘদিন ধরে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকা এবং নিয়মিত মুনাফা করা ডোরিন পাওয়ারের মতো কোম্পানির নাম তালিকায় থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিনিয়োগকারী ও বাজারসংশ্লিষ্টরা।

ডিএসইর এমন সিদ্ধান্তে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে কোম্পানিটির বিনিয়োগকারীদের মাঝে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এ প্রসঙ্গে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি থেকে সতর্ক ও সচেতন করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ডিএসই কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও, তালিকাটি প্রকাশের পর থেকেই বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ডিএসই জানায়, আর্থিকভাবে দুর্বল এবং কার্যক্রম বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ করে যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে লক্ষ্যেই এই সতর্কতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ‘রেড এলার্ট’ জারি করে বিনিয়োগকারীদের সচেতন করা হচ্ছে। অডিটরদের পর্যবেক্ষণ, আর্থিক সূচক ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ডরিন পাওয়ারকেও এই অডিট রিপোর্টের ভিত্তিতেই কিপূর্ণ কোম্পানির তালিকায় রাখা হয়েছে। এখানে ডিএসইর কোন দায় নেই। তবে কোন কোম্পানিকে ঠিক কী কারণে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ডিএসইর এমন সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন ডোরিন পাওয়ারের কর্মকর্তারাও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোম্পানিটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকে বিনিয়োগকারীদের ভালো লভ্যাংশ দিয়ে ‘এ’ ক্যাাাগরিতে রয়েছে কোম্পানিটি। গত পাঁচ বছরে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দিয়েছে। এমন একটি কোম্পানিকে ডিএসই যে ভাবে সঙ্কটাপন্ন কোম্পানির তালিকায় দিয়ে রেখেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। যদিও বছরের পর বছর ডিভিডেন্ড দেয় না, আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করে না এমন কি বছরের পর বছর এজিএম করে না এমন কয়েক ডজন কোম্পানি আছে যা ডিএসইর বন্ধ বা সঙ্কটাপন্ন কোম্পানির তালিকায় নেই।

ডরিন পাওয়ারের একাধিক আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দাখে যায়, কোম্পানিটি ডরিন পাওয়ার ২০২২ সালে ১৫০২ কোটি টাকা, ২০২৩ সাল ১৮৪৩ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে ১৩৩৪ কোটি টাকা ও ২০২৫ সালে ১৫০৬ কোটি টাকা আয় করেছে।

কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস – ২০২৩ সাল ৩ দশমিক ৫৬ টাকা, ২০২৪ সালে ১ দশমিক ৮১ টাকা, ২০২৫ সালে ৩ দশমিক ১৯ টাকা ও ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ১৯ টাকা (৯ মাসে) আয় করেছে।

কোম্পানির রিজার্ভ আছে ৭৬০ কোটি টাকা, শেয়ার প্রতি সম্পদ আছে (NAV Per Share) ৫২ টাকা।

উল্লেখ, নিরীক্ষকদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৪২টি কোম্পানিকে ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’ বা ব্যবসা পরিচালনায় অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি কোম্পানি বন্ধ প্রতিষ্ঠানের তালিকাতেও রয়েছে। ফলে কার্যত ৩০টি সক্রিয় কোম্পানিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ডিএসই।

ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে অলটেক্স, আনলিমা ইয়ার্ন, বিডি সার্ভিসেস, বিডিথাই ফুড, বিআইএফসি, সেন্ট্রাল ফার্মা, ঢাকা ডায়িং, ডরিন পাওয়ার, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, মেঘনা সিমেন্ট, প্রাইম ফাইন্যান্স, সানলাইফ ইনস্যুরেন্স, তাল্লু স্পিনিং এবং ঝিল বাংলা।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.