১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে সই হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিকভাবে এতে স্বাক্ষর করেছেন।
গতকাল বুধবার (১৭ জুন) তারা এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ভার্সাই প্রাসাদে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে নৈশভোজের সময় ট্রাম্প এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে জানান।
প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে আসার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, এইমাত্র সই করলাম।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) ইলেকট্রনিকভাবে সই করেছেন। উভয় পক্ষ জানিয়েছে, চুক্তিটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ হবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে বলেন, দুই প্রেসিডেন্টের সই করার মধ্য দিয়ে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন এটি বাস্তবায়নের পরীক্ষা নেওয়ার সময় এসেছে।
এই সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য হলো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের অবসান ঘটানো। ওই যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়।
সমঝোতা স্মারকের শর্তানুসারে, ওয়াশিংটন ইরানের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তোলা তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।
স্মারকের শর্তানুসারে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্য অর্জিত হলে আঞ্চলিক দেশগুলোর সমর্থনে গঠিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল ছাড়ে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র।
ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্মারকটি সই হয়েছে জানিয়ে ইসমাইল বাগাই বলেন, এটি এরইমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।
বুধবারের এই বিবৃতি থেকে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সামরিক অভিযান স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে, যা স্থায়ী চুক্তিতে যেতে আলোচনার পথ প্রশস্ত করবে।
এর আগে এই স্মারকে ইরানের প্রধান আলোচক ও স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সই করার কথা ছিল। ইরান পরে জানায়, সরাসরি উপস্থিতিতে স্মারক সইয়ের আনুষ্ঠানিকতার আর প্রয়োজন নেই।
তবে দুই দেশের আলোচক দলগুলো এখনও ওই সুইস শহরেই অবস্থান করার পরিকল্পনা করছে। তাদের মধ্যে সম্ভাব্য সরাসরি কোনো বৈঠক হবে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। যদিও বাগাই জানিয়েছেন, আপাতত সেই পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দপ্তর থেকে সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে আল জাজিরার প্রতিনিধি মাইক হানা জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন, ‘এখন সমঝোতা স্মারকটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।’



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.