ইসলামী ব্যাংক পিএলসি কুমিল্লা শাখায় গ্রাহক মো. হাসান মজুমদার (৪৬) নামে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গ্রাহক নিজেই বাদী হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
রোববার (১৪ জুন) দুপুর আড়াইটায় কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মোমিনুল হকের আদালতে হাজির হয়ে তিনি মামলাটি দায়ের করেন। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানাকে সরাসরি এফআইআরের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটোয়ারী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন—রাজধানীর মিরপুর-১-এর আহমেদ নগরের পাইকপাড়ার শাহ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী, বরিশালের ধামুড়া বাজার এলাকার মো. সোহেলসহ মোট ৬ জন।
আদালত ও মামলা সূত্র জানায়, গত ১ জুন থেকে ৪ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে একটি চক্র মো. হাসান মজুমদারের অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বমোট ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা ট্রান্সফার করে অন্য ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে নিয়ে যায়। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই লেনদেনের সময় ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার ফোনকল বা মেসেজের মাধ্যমে গ্রাহককে কিছুই অবগত করা হয়নি।
পরবর্তীতে গত ৭ জুন দুপুরে মো. হাসান মজুমদার ইসলামী ব্যাংক কুমিল্লা শাখায় টাকা উত্তোলনের জন্য গিয়ে জানতে পারেন, তার অ্যাকাউন্ট থেকে সব টাকা উধাও হয়ে গেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, চক্রটি এনআরবিসি ব্যাংকের মিরপুর শাখার শাহ ট্রেডার্সের অ্যাকাউন্ট, পূবালী ব্যাংকের বরিশাল ধামুড়া বাজার উপশাখার গ্রাহক মো. সোহেলের অ্যাকাউন্ট এবং একাধিক বিকাশ ও নগদ নম্বরে টাকাগুলো স্থানান্তর করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী এখন টাকা উদ্ধারে ইসলামী ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংক কুমিল্লা শাখার ম্যানেজার মোহাম্মদ হোসাইন আখতার বলেন, গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে গেলে অবশ্যই তার ফোনে মেসেজ বা নোটিফিকেশন যাবে। আমার শাখায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। আদালতে মামলা হয়েছে কিনা সেই তথ্যও আমাদের কাছে নেই। আদালত আমাদের কাছে চাইলে সহযোগিতা করব।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, মো. হাসান মজুমদারের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হওয়ার ঘটনায় কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতে আমরা মামলা দায়ের করেছি। বিচারক মোমিনুল হক মামলাটি আমলে নিয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশকে মামলাটি সরাসরি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, আদালতের নির্দেশনার কাগজপত্র আমরা এখনো হাতে পাইনি। নথি পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অর্থসুচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.