রামিসা হত্যা মামলা: মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আসামিদের জেল আপিল গ্রহণ করলেন হাইকোর্ট

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের জেল আপিল গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট।

রোববার (১৪ জুন) বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে এই শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

জেল আপিলে আসামি সোহেল বলেন, পারিবারিক অশান্তি, মাদকাসক্ত, আর্থিক অভাবের কারণে রামিসার হত্যাকাণ্ড অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেছে। মাদকাসক্তির কারণে কীভাবে কী ঘটে গেছে তাও বুঝতে পারিনি।

Nagad

জেল আপিলে আসামি স্বপ্না বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই। আমাকে অন্যায়ভাবে জড়ানো হয়েছে।

এছাড়া, বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে শিশু আছিয়া ও শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার আবেদন জানান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

তিনি বলেন, যেহেতু এ মামলাগুলো মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে, তাই দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিতিতে শুনানি করা প্রয়োজন।

এসময় অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, এ মামলাগুলো কোনো মূলতবি ছাড়া বিরতিহীনভাবে শুনানি করতে চায় রাষ্ট্রপক্ষ।

এরআগে গত ১৯ মে সকালে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে একটি ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে আট বছরের এ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। গত ৭ জুন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালত প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০- এর ধারা ৯(২) মোতাবেক মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন এবং তাকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। একইভাবে অভিযুক্ত মোছা. স্বপ্নাকেও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় এবং তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারের কনডেম সেলে স্থানান্তর করা হয়।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.