ব্যবসাবান্ধব বাজেট উল্লেখ করে সরকারকে অভিনন্দন জানাল আইক্যাব

বাংলাদেশের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ইনস্টিটিউটের (আইক্যাব) সভাপতি এন কে এ মবিন এফসিএ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামগ্রিকভাবে ব্যবসাবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করে সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত জাতীয় বাজেট এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থাপিত কৌশলগত, দূরদর্শী ও সময়োপযোগী বাজেট দেশের বর্তমান দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি উল্লেখ করেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট মোট দেশজ উৎপাদনের ১৩ দশমিক ৭ শতাংশের সমান। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ব্যবসা-বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে স্থবিরতা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট গ্রহণ উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য উৎসাহব্যঞ্জক।

তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে পূরণের পরিকল্পনা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে খুচরা ব্যবসায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ এবং কৃষিপণ্যে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কর মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে আইক্যাব সভাপতি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং আইক্যাবের যৌথ উদ্যোগে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম বাস্তবায়ন রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে। এছাড়া করপোরেট কর রিটার্ন ডিজিটালাইজেশনে আইক্যাবের অংশগ্রহণও কর ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ করবে।

আয়কর আইনে পাঁচ বছরের জন্য করহার নির্ধারণ, ন্যূনতম করের বিধান শিথিল, স্ব-মূল্যায়ন পদ্ধতির জোরদার, নিবন্ধিত স্টার্টআপের জন্য কর সুবিধা, উৎসে কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য উইথহোল্ডিং আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বাধ্যতামূলক এবং ট্রাইব্যুনালে আপিলের আগে কর জমার হার ১০ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে আইক্যাব।

একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানির নগদ লভ্যাংশ ৩০ শতাংশের কম হলে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর আরোপ, খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে অগ্রিম কর সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা এবং লাভ-লোকসান বিবেচনা ছাড়াই ন্যূনতম টার্নওভার কর আরোপের বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইনে শ্রমকে ইনপুটের সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়া, প্রকৃত মূল্য সংযোজনের ওপর ভ্যাট আরোপ, কনটেন্ট নির্মাতা ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতি, আপিলের আগে জমার হার ১০ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং পুরোনো মামলায় জরিমানাসহ সুদ পরিশোধের সময়সীমা ২৪ মাস নির্ধারণকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছে আইক্যাব।

তবে তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বিধান অগ্রিম ভ্যাট হিসাবকে জটিল করতে পারে এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও মোবাইল আর্থিক সেবার মার্চেন্ট হিসাব খোলার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ব্যবসায়িক শনাক্তকরণ নম্বরের শর্ত ছোট ব্যবসার জন্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে বলে মত দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

কাস্টমস আইন ২০২৩-এ ‘ইমপোর্টার অন রেকর্ড’ ধারণা, ফ্রি ট্রেড জোন কাঠামো, ফ্রি ট্রেড জোনে পরিচালনগত নমনীয়তা, আপিলের আগে জমার হার ১০ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক রেফারেন্স মূল্যের ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছে আইক্যাব।

তবে উচ্চ আদালতে আপিলের আগে ২ শতাংশ অর্থ জমা দেওয়ার বিধান পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

শেষে আইক্যাব সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সামগ্রিকভাবে ব্যবসাবান্ধব এবং এটি বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত অর্থনীতির পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি রাজস্ব বৃদ্ধি ও আইনের অস্পষ্টতা দূরীকরণে আইক্যাবের বিভিন্ন প্রস্তাব গ্রহণ করায় তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.