জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২০২৭) বাজেট উত্থাপন শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম এবং দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এটি।
এবারের বাজেটে আসন্ন অর্থবছরের (২০২৬-২৭) জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী । প্রস্তাবিত এ বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১.০১ শতাংশ, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উত্থানের সময় তিনি এ প্রস্তাব দেন।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই বরাদ্দ জিডিপির ১.০১ শতাংশের সমান।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ০.৫৮ শতাংশ। সেই হিসাবে নতুন অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ৩৩ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাজেট বক্তৃতায় সরকার স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণের কথাও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য খাতে সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে সর্বজনীন ও ন্যায়সংগত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, চিকিৎসা-কেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধ-কেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তর, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য জোরদার এবং স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও চিকিৎসা শিল্পের বিকাশ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় নাগরিকদের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, জেলা হাসপাতালে বিশেষায়িত চিকিৎসা সম্প্রসারণ, জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গঠন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতা অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশব্যাপী নতুন করে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার ৮০ শতাংশ হবে নারী।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.