নৈতিক মনোবল বৃদ্ধির মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীকে আরও সেবামুখী ও জনবান্ধব করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের পর পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার সফল হয়েছে। পুলিশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জনবান্ধব এবং জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাম্প্রতিক দেশব্যাপী তিনটি সাড়া জাগানো ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের প্রশংসনীয় অবদান ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী ১৫ পুলিশ সদস্যকে সরকার পুরস্কৃত করেছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি ও মন্দ কাজের জন্য তিরস্কারের এই প্রক্রিয়া পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে আরও বেশি কর্তব্যপরায়ণ, আন্তরিক ও ন্যায়নিষ্ঠ হতে অনুপ্রাণিত করবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডে দ্রুত ডিএনএ টেস্ট ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট দেয়া, দৌলতদিয়া ঘাটে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কারণে অন্তত ৫০ জন বাসযাত্রীর প্রাণ রক্ষা এবং মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় কিশোরী হত্যার ক্লুলেস মামলার দ্রুততম রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতারে ভূমিকা রাখায় ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করেছে সরকার। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের মনোবল বাড়বে।
বিগত ২০২৪ ও ২০২৫ সালের অপরাধ চিত্রের তুলনামূলক পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি জানান, বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং প্রতিটি ক্যাটাগরিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে।
মামলা তদন্তে পুলিশ কর্মকর্তাদের সরকারি বরাদ্দের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে তদন্ত কার্যক্রম, পোস্টমর্টেম ও পুলিশি টহল আরও গতিশীল করতে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
বিগত সময়ে পলাতক থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পলাতক বা শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অনুকম্পা দেখানো হবে না। ইতোমধ্যে আলোচিত কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী একাধিক বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। একই সাথে যাদের বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্ট বা দ-বিধির অধীনে মামলা রয়েছে, তারা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে বিচারের সম্মুখীন হবেন। অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.