ব্রিটিশ ও চীনা প্রতিনিধি দলের সম্মানে ইএটিএল ইনোভেশন হাবের নৈশভোজ ও আলোচনা সভা

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সফররত উচ্চপর্যায়ের ব্রিটিশ ও চীনা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি দলের সম্মানে রাজধানীর দ্য ওয়েস্টিন ঢাকার বলরুমে এক নৈশভোজ ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ইএটিএল ইনোভেশন হাব লিমিটেড। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. মুবিন খান।

সোমবার (৬ জুন) প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়নভিত্তিক বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের জন্য এই আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।

অনুষ্ঠানে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী নেতা এবং বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, এমপি; বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, এমপি; বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, এমপি; সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ, ডিজিএমই-এর মহাপরিচালকসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কাউন্সিলর আব্দুল জব্বার এমবিই, ডেপুটি লিডার, ওল্ডহাম কাউন্সিল এবং চেয়ারম্যান, গ্রেটার ম্যানচেস্টার বাংলাদেশ পার্টনারশিপ বোর্ড। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন অ্যান্ড্রু ম্যাককালি, ক্রিস বল্ডউইন, হাউ চুনলিন এবং কিউ রান।

আলোচনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন এবং প্রযুক্তি খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা গ্রিন এনার্জি প্রকল্প, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এই আয়োজনটি ২০২৫ সালের নভেম্বরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে এম. এ. মুবিন খানের যুক্তরাজ্য সফরের ধারাবাহিকতার অংশ। ওই সফরে যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে জিম ম্যাকমাহন ওবিই, এমপি এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষা, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, এমপি বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং দেশকে আঞ্চলিক ব্যবসা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

ড. আব্দুল মঈন খান, এমপি বলেন, যুক্তরাজ্য ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত আন্তরিক ও গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে সরকারি ও বেসরকারি খাতের কার্যকর অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এম. এ. মুবিন খান বলেন, “বাংলাদেশ বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি আরও বলেন, “নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রবৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করবে।”

বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি খাতভিত্তিক ইনোভেশন হাব হিসেবে ইএটিএল ইনোভেশন হাব লিমিটেড গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি অবকাঠামো পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা অ্যানালিটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস, অগমেন্টেড রিয়েলিটি ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটিসহ বিভিন্ন ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করছে।

দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, উদ্ভাবন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ শিল্পখাতের চাহিদা পূরণে সক্ষম দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে ইএটিএল ইনোভেশন হাবের অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.