ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইসরায়েলে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে এ হামলা চালিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কথিত যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর এটি ইসরায়েলে ইরানের প্রথম হামলা। লেবাননের দক্ষিণ বৈরুতে ইসরায়েলের ভয়ানক হামলার প্রতিবাদে ইরান ইসরায়েলে এই হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা স্বীকার করেছে। তবে তারা দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করেছে। তারা প্রতিশোধ হিসেবে ইরানে পাল্টা হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইসরায়েল দেশটিতে হাৃলা চালালে তারা  মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালাবে।

ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরান, ইরাক ও লেবানন তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে।

খবর আলজাজিরা ও আরব নিউজের।

আরব নিউজের খবরে বলা হয়, ইসরায়েল রবিবার জানিয়েছে যে, এপ্রিলের শুরুতে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম ইরান তাদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা যুদ্ধ শেষ করার একটি চুক্তির জন্য মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং সশস্ত্র বাহিনীর বরাত দিয়ে বলেছে যে, “যদি ইসরায়েল ইরানের হামলার জবাব দেয় অথবা লেবাননের ওপর হামলা বন্ধ না করে, তাহলে ইরানের হামলা অব্যাহত থাকবে।”

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে তারা ইরান থেকে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, কিন্তু সতর্ক করে বলেছে, “প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র নয়।” তারা আরও জানায় যে দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় সাইরেন বেজে উঠেছে। উত্তর ইসরায়েলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, কিন্তু ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, যারা প্রায়শই ওই এলাকায় গোলাবর্ষণ করে থাকে।

ইসরায়েলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সংক্রান্ত বার্তার বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ওয়াশিংটনের কয়েকদিন আগের সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ উপেক্ষা করে ইসরায়েল রবিবার কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে হামলা চালানোর পর তেহরান প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। দিনের শুরুতে উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর গোলাবর্ষণের প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েল এই হামলাকে আখ্যা দিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজিত আলোচনায় লেবানন ও ইসরায়েলি সরকার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কয়েকদিন পরই বৈরুতে ইসরায়েলের এই হামলাটি হয়, যদিও হিজবুল্লাহ এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি আবাসিক ভবনে চালানো এই হামলায় দুজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।

ইরান সতর্ক করেছিল যে বৈরুতে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে পুরোদমে যুদ্ধ আবার শুরু হবে, যদিও পাকিস্তান তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করছে। ইরান চায় চুক্তিতে লেবাননের যুদ্ধের অবসান অন্তর্ভুক্ত থাকুক।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.