হজযাত্রীদের লাগেজ চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন: মিল্লাত

হজ ফেরত যাত্রীদের লাগেজ চুরির অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, তদন্তে ঢাকা বিমানবন্দরে কোনো ধরনের চুরি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ হজ ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের লাগেজ কেটে মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে তাৎক্ষণিক অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বডি-ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্তে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটে বহন করা মোট ৮৩৬টি লাগেজের মধ্যে ২১টি ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে যাত্রীরা মৌখিকভাবে গ্রাউন্ড স্টাফদের জানিয়েছিলেন। তবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় কোনো ধরনের লাগেজ চুরি বা অসদাচরণের প্রমাণ মেলেনি বলে তিনি জানান।

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বিধিমালা অনুযায়ী চেক-ইন লাগেজে জমজমের পানি ও সঠিকভাবে সিল না করা প্রসাধনী সামগ্রী বহন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ ধরনের সামগ্রী স্ক্রিনিংয়ের সময় শনাক্ত হলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক বিধি অনুসারে লাগেজ খুলতে বা কেটে নিষিদ্ধ সামগ্রী জব্দ করার ক্ষমতা রাখে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ঘোষণাবিহীন নগদ অর্থ ও মানিব্যাগও চেক-ইন লাগেজে বহন করা যায় না।

বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের প্রতিবেদন ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক থাকতে সহায়তা করবে। সমালোচনা অবশ্যই গঠনমূলক হওয়া উচিত। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে বুধবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, হজযাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘœ যাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। বিবৃতিতে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) যাত্রীদের মালামাল নিরাপদে ফেরত দিতে সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.